ওঙ্কার ডেস্ক: কাশ্মীরের শ্রীনগরের কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন মহাদেব’-এর সাফল্য নিয়ে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে তীব্র আলোচনা। তিন পাকিস্তানি জঙ্গি সুলেমান, আফগানি এবং জিব্রান নিহত হয়েছে এই অভিযানে, যাদের নাম জড়িয়ে রয়েছে পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, ফরেন্সিক পরীক্ষায় ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে, নিহত এই তিন জনই সেই হামলার মূল চক্রী। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে এত দিন ধরে তারা কাশ্মীরে থেকে গেল কী করে? কেনই বা তারা সীমান্ত পেরিয়ে পালাতে পারল না?
উত্তরটা লুকিয়ে রয়েছে ভারতীয় সেনার নিখুঁত পরিকল্পনায়। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, হামলার পরে পাকিস্তানে পালানোর জন্য একটি আট কিলোমিটার দীর্ঘ সম্ভাব্য পথ চিহ্নিত করেছিল বাহিনী। সেই পথেই নজরদারি বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে কোনও উপায়েই জঙ্গিরা সেখান দিয়ে সীমান্ত পেরোতে না পারে। শুধু তাই নয়, একাধিক গোপন সুড়ঙ্গ, যেগুলোর সাহায্যে জঙ্গিরা বেরিয়ে যেতে পারত, সেগুলিও কৌশলে বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তাবাহিনী সুড়ঙ্গগুলি খুঁড়ে মুখ পর্যন্ত খুলে দেয়, যাতে জল ঢুকে তা অকেজো হয়ে পড়ে। জলের স্রোতে মুখ ডুবে যাওয়া সুড়ঙ্গগুলো আর ব্যবহারযোগ্য ছিল না, ফলে কাশ্মীরেই আটকে পড়ে তিন জঙ্গি। তাদের প্রতিটি পালানোর রাস্তা কার্যত জলে ডুবে গিয়েছিল।
গোয়েন্দারা বহু দিন ধরে তাদের কথোপকথনে আড়ি পাতছিলেন। সেই সূত্রেই এক সময় শ্রীনগরের অদূরে তাদের অবস্থান চিহ্নিত হয়। সেনা, সিআরপিএফ এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের যৌথ বাহিনী গোপন ডেরায় অভিযান চালায়। সোমবার যখন সংসদে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে ভাষণ দিচ্ছেন, সেই সময়েই চলছিল শ্রীনগরের কাছে গুলির লড়াই। বেশ কিছুক্ষণ ধরে সংঘর্ষ চলার পর, তিন জন জঙ্গিকে খতম করে বাহিনী। উদ্ধার হয় এম৯, একাধিক একে৪৭ রাইফেল, গ্রেনেডসহ বিস্তর অস্ত্র।
এই পুরো অভিযানের সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ ছিল ফরেন্সিক শনাক্তকরণ। পহেলগাঁওয়ে ব্যবহার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের খোলের সঙ্গে অভিযানে উদ্ধার হওয়া রাইফেল থেকে পরীক্ষামূলক গুলি চালিয়ে মিল খোঁজা হয়। অস্ত্র চণ্ডীগড় পাঠানো হয় বিশেষ বিমানে। গুলির খোলের সঙ্গে সাদৃশ্য পরীক্ষা করতে অহমদাবাদ থেকেও আনা হয় বিশেষ যন্ত্র। সেই পরীক্ষায় ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়ায় সরকার নিশ্চিত হয় জঙ্গিদের পরিচয় নিয়ে।
অভিযোগ উঠেছে, কাশ্মীরের কিছু স্থানীয় বাসিন্দা এই জঙ্গিদের আশ্রয় দিয়েছিল। তাদের সামনে নিয়ে যাওয়া হয় মৃতদেহগুলি শনাক্তকরণের জন্য। স্থানীয়রাই জানান, এই তিন জনই পহেলগাঁওয়ে হামলার দিন ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পুরো ফরেন্সিক প্রক্রিয়া রাতভর নিজে তদারকি করেছেন বলে সূত্রের দাবি।
