ওঙ্কার ডেস্কঃ বাংলাদেশী সন্দেহে আরোও এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু। ওড়িশার সম্বলপুরে এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে খুনের ঘটনা সামনে এল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। নিহত যুবকের সহকর্মীর দাবি, ঘটনার সময় আধার কার্ড দেখতে চেয়েছিল অভিযুক্তরা। বাংলাদেশি সন্দেহেই এই খুন বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় জুয়েল শেখকে সম্বলপুরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। ওই ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন।
মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা আহত শ্রমিক মাজহার খান জানান, “বুধবার রাতে শাস্তি নগর এলাকায় তাঁদের অস্থায়ী ঘরে রান্না করছিলেন। সেই সময় ছ’জন ব্যক্তি এসে প্রথমে বিড়ি চান। এরপর পরিচয় জানতে চেয়ে আধার কার্ড দেখাতে বলে। তার পরেই জুয়েলের মাথা শক্ত কিছুর সঙ্গে আছড়ে দেয়।”
আইজিপি হিমাংশু কুমার লাল বলেন, “এই খুনের ঘটনার সঙ্গে মৃত বা আহতদের নাগরিকত্ব বা পরিচয়ের কোনও সম্পর্ক নেই। বিড়ি নিয়ে বচসা থেকেই ঝামেলা শুরু হয়েছিল।” যদিও এই ঘটনায় আরও এক শ্রমিক নিজামুদ্দিন খান দাবি করেছেন, হামলাকারীরা তাঁদের বারবার ‘বাংলাদেশি’ বলে গালিগালাজ করছিল। পরিচয় নিয়ে সন্দেহ থেকেই মারধর শুরু হয় বলে অভিযোগ শ্রমিকদের পরিবারের। এই ঘটনায় ছ’জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ফের অন্য রাজ্যে বাংলাদেশী সন্দেহে পরিযায়ী শ্রমিকের খুন নিয়ে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছে, সম্বলপুরে এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে খুন আসলে বিজেপির দীর্ঘদিনের বাংলা-বিরোধী প্রচারের ফল। বিজেপি বরাবর বাংলা ভাষাভাষীদের অনুপ্রবেশকারী ও ওপার বাংলার বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সেকারণে এই ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে।
