ওঙ্কার ডেস্ক: তুরস্কের রাজধানী ইস্তানবুলে চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যেই পাকিস্তান আফগানিস্তানকে কার্যত যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। শনিবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা মহম্মদ আসিফ স্পষ্ট ভাষায় জানান, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে পাকিস্তান “খোলা যুদ্ধের” পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে। তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে চলা সন্ত্রাস ও গুলি বিনিময়ের ঘটনায় ইসলামাবাদের ধৈর্য প্রায় শেষের পথে।
গত কয়েক মাস ধরেই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা চরমে উঠেছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি নিয়মিতভাবে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা চালাচ্ছে, যার ফলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। আফগান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, পাকিস্তান বরং তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে এবং সীমান্তে বারবার হামলা চালাচ্ছে। এর মধ্যেই ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা চলছে। সেই আলোচনার মাঝেই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এমন কড়া হুঁশিয়ারি কূটনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ বলেন, “আমরা আলোচনায় বিশ্বাসী, কিন্তু যদি এই আলোচনা ব্যর্থ হয়, তাহলে যুদ্ধ ছাড়া আর কোনও বিকল্প থাকবে না। আমাদের জনগণ ও সেনাদের নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।” তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, পাকিস্তান এবার সীমান্তে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ‘রয়টার্স’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান গত সপ্তাহে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল। তবে সেই বিরতির পরেও সীমান্তে হামলা ও গুলি চালানোর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসন সীমান্তে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের তরফে এখনও এই হুঁশিয়ারির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে কাবুলের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, পাকিস্তান নিজেদের অভ্যন্তরীণ অশান্তি এবং রাজনৈতিক চাপ ঢাকতে এমন কড়া অবস্থান নিচ্ছে। আফগানিস্তানের এক কূটনৈতিক প্রতিনিধি বলেন, “আমরা শান্তি চাই, যুদ্ধ নয়। কিন্তু পাকিস্তানের হুমকি সীমান্ত উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে।”
ইস্তানবুল আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক ও কয়েকটি মধ্য এশিয়ার দেশ পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত রয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলোচনায় ব্যর্থতা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। কারণ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে শুধু সীমান্তবর্তী এলাকা নয়, গোটা অঞ্চলের বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হবে।
এদিকে, পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে এবং সন্ত্রাস দমন অভিযানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চায়। ইসলামাবাদের এক সরকারি মুখপাত্র বলেন, “আমরা চাই কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হোক। কিন্তু যদি তা না হয়, আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
ইস্তানবুলে এই শান্তি আলোচনা সফল হবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে দুই দেশের সদিচ্ছা ও আপসের মনোভাবের উপর। তবে পাকিস্তানের এই সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি নিঃসন্দেহে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।
