অর্পিতা মুখার্জী: সীমান্তে উত্তেজনা, কূটনীতিতে শীতলতা। তার মধ্যেই সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের মঞ্চে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানাল ভারত। আগামী ২০ থেকে ২২ নভেম্বর রাজধানী দিল্লিতে বসতে চলেছে এসসিও-র সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত বৈঠক। সেই বৈঠকে যোগ দিতে পাকিস্তানের সংস্কৃতিমন্ত্রী ঔরঙ্গজেব খান সহ সংগঠনের সব সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি।
কেন্দ্রের ব্যাখ্যা, এটি পুরোপুরি একটি মাল্টিল্যাটারাল বা বহুপাক্ষিক কর্মসূচি। ভারত এবারের আয়োজক দেশ হিসেবে প্রোটোকল মেনে সব সদস্যকে ডেকেছে। এর সঙ্গে ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওঠাপড়াকে মেলানো ঠিক নয়। অন্যদিকে আমন্ত্রণ পেলেও ইসলামাবাদ এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কিছু জানায়নি। ফলে তাদের উপস্তিতি নিয়ে জল্পনা থেকেই যাচ্ছে।
এই আমন্ত্রণ এমন এক সময়ে এল, যখন দুই দেশের সম্পর্ক কার্যত সর্বনিম্ন পর্যায়ে। পহেলগাঁও কাণ্ডের পর ভারতের অপারেশন সিঁদুর এবং তার পর থেকে লাগাতার কূটনৈতিক চাপানউতোর চলছে। বিশ্বমঞ্চে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানকে একাধিকবার নিশানা করেছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী মোদী থেকে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর, সকলেই এক সুরে বলেছেন, সন্ত্রাসে ‘জিরো টলারেন্স’ই ভারতের নীতি। গত সেপ্টেম্বরে বিশকেকে অনুষ্ঠিত ২৬তম এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, “সন্ত্রাস দমনে দ্বিচারিতা চলবে না। যারা সন্ত্রাসকে রাষ্ট্রীয় নীতি বানিয়েছে, তাদের স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে।”
পাল্টা পাকিস্তান বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীর ইস্যু তুলেছে। ভারতের পাল্টা যুক্তি, কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ ও দ্বিপাক্ষিক বিষয়, এখানে তৃতীয় পক্ষের কোনও জায়গা নেই।
উল্লেখ্য, সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের মধ্যেও কূটনৈতিক সৌজন্য বজায় ছিল। ২০২৪ সালের অক্টোবরে এসসিও কাউন্সিলের বৈঠকে যোগ দিতে ইসলামাবাদ গিয়েছিলেন জয়শঙ্কর, যদিও সেখানে কোনও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়নি। তার আগে ২০২৩ সালের মে মাসে গোয়ায় এসসিও বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে এসেছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো। এবার দিল্লির বৈঠকে পাকিস্তান আদৌ প্রতিনিধি পাঠায় কি না, সেটাই এখন দেখার।