নিজস্ব সংবাদদাতা: স্থলভাগে প্রবেশ শুরু করেছে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, কোথাও কোথাও দমকা হাওয়া ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছুঁয়েছে।
মৌসম ভবনের বুধবার ভোরের বুলেটিন অনুযায়ী, অর্ণবের উত্তরের সর্পিল অংশ ইতিমধ্যেই উপকূলে ঢুকে পড়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র অর্থাৎ আই এখন স্থলভাগের খুব কাছে রয়েছে। ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া তিন থেকে চার ঘণ্টা ধরে চলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে অন্ধ্রের কাকিনাডার কাছে পুদুচেরির ইয়ানামের নিকটে প্রথম আছড়ে পড়ে অর্ণব। বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল এবং ইয়ানামের দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে এটি স্থলভাগে প্রবেশ করছে। ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া শেষ হলেই ধীরে ধীরে শক্তি হারাবে সিস্টেমটি এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোবে।
ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে অন্ধ্রপ্রদেশে। আনাকাপল্লি, বিশাখাপত্তনম, কাকিনাডা, কোনাসীমা জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি চলছে। ঝড়ে বহু জায়গায় গাছ উপড়ে পড়েছে, সমুদ্র উত্তাল। আগাম সতর্কতা হিসেবে উপকূলীয় এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরানো হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী রাস্তায় পড়ে থাকা গাছ সরানোর কাজ করছে। রাজ্যের তিনটি বিমানবন্দরে বিমান পরিষেবা স্থগিত, বেশ কিছু বিমান বাতিলও করা হয়েছে। ট্রেন চলাচলেও প্রভাব পড়েছে।
অন্যদিকে ওড়িশার গোপালপুর, পুরী-সহ উপকূলবর্তী এলাকাতেও ঝড়ের দাপট চলছে। দুই রাজ্যেই উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সরাসরি প্রভাব না পড়লেও অর্ণবের জেরে পশ্চিমবঙ্গেও বৃষ্টি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকেই কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি হচ্ছে। বুধবার সকাল থেকেই কলকাতার আকাশ মেঘলা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কোথাও কোথাও জল জমার আশঙ্কা রয়েছে।
দিঘা, তাজপুর, মন্দারমণি উপকূলে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবারও দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি চলবে বলে পূর্বাভাস। পাশাপাশি বৃহস্পতি ও শুক্রবার উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।