ফের উত্তপ্ত আফগান-পাক সীমান্ত। বুধবার গভীর রাতে আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশে অন্তত ১০টি এলাকায় আকাশপথে হামলা চালাল পাকিস্তান। পাক সেনার দাবি, ওই এলাকাগুলিতে ড্রোন মজুত করছিল আফগানিস্তান। যদিও আফগান প্রশাসন জানিয়েছে, হামলায় কোনও হতাহতের খবর নেই।
সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। গত রবিবার রাতেও আফগানিস্তানের কুনার এবং পাকতিকায় বোমা ফেলেছিল পাক বাহিনী। সেই হামলায় অন্তত তিন আফগান নাগরিকের মৃত্যু হয়। তার তিন দিনের মাথায় ফের এই ঘটনা। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারের দাবি, বুধবার আফগানিস্তান থেকে পাক ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ড্রোন ছোড়া হয়েছিল। লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই সেগুলি ধ্বংস করে দেওয়া হয়। ওই ড্রোন হামলার জবাব দিতেই খোস্তের ১০ জায়গায় পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে খোস্তের প্রাদেশিক প্রশাসনের মুখপাত্র মুস্তাগফির গুরবাজ জানিয়েছেন, পাকিস্তান কয়েকটি এলাকায় হামলা চালিয়েছে ঠিকই, তবে কারও মৃত্যু হয়নি।
কেন বারবার সংঘর্ষ?
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘর্ষের মূলে রয়েছে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় তেহরিক-ই-তালিবান গোষ্ঠী, যাকে পাকিস্তানি তালিবানও বলা হয়। পাক নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে প্রায়শই তাদের সংঘর্ষ লাগে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সামলাতে ব্যর্থ হয়ে ইসলামাবাদ এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে কাবুলের যোগসাজশের তত্ত্ব খাড়া করছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, এই বিদ্রোহীদের মদত দিচ্ছে আফগান তালিবান সরকার। যদিও শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে কাবুল।
প্রসঙ্গত, গত মার্চে কাবুলের একটি হাসপাতালে পাকিস্তানের বোমাবর্ষণে অন্তত ৪০০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছিল। সেই ঘটনার কড়া নিন্দা জানিয়েছিল নয়াদিল্লিও। তারপর মাসখানেক পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও গত সপ্তাহ থেকে ফের উত্তেজনা বাড়ে। উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে একটি থানায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়। তারপর চলতি সপ্তাহে দু’বার আফগানিস্তানে হামলা চালাল পাক বাহিনী।