ওঙ্কার ডেস্ক: চলতি বছেরের মে মাসে পাকিস্তানি মদতপুষ্ট জঙ্গী ঘাঁটির উপর তীব্র আঘাত হেনেছিল ভারতীয় সেনা। প্রায় ৯টি ঘাঁটি একেবারে ধুলিস্যাৎ করেছিল ভারতীয় আকাশ বাহিনী। সেই হামলা ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে পরিচিত। অপারেশন সিঁন্দুরের ছয় মাস পর জম্মু ও কাশ্মীরে নতুন করে নড়েচড়ে বসেছে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক। ভারতীয় সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে, পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনগুলি ফের সক্রিয় হয়ে উঠছে এবং সীমান্তে নতুন হামলার পরিকল্পনা করছে। লস্কর-ই-তইবা ও জইশ-ই-মহম্মদ এর মতো সংগঠনগুলি পাকিস্তানের মাটিতে ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ছোট ছোট প্রশিক্ষণ শিবির পুনর্গঠন করছে বলে খবর।
প্রসঙ্গত, প্রায় ছয় মাস আগে ভারতীয় সেনা পরিচালিত ‘অপারেশন সিন্ধুর’-এ পাকিস্তানের মাটিতে ও পিওকে অঞ্চলে একাধিক সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছিল। এই অভিযানের পর সীমান্তে কার্যত শান্তি ফিরে এসেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স নতুন করে সন্ত্রাসবাদী পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, বড় আকারের প্রশিক্ষণ শিবির ভেঙে এখন তারা ছোট ছোট ইউনিট তৈরি করছে, যাতে একসঙ্গে একাধিক স্থানে কার্যক্রম চালানো যায় এবং হামলার পর ক্ষয়ক্ষতি কম হয়।
ভারতীয় গোয়েন্দারা আরও জানিয়েছেন, সীমান্তের ওপারে ড্রোনের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বিভিন্ন দুর্বল এলাকা চিহ্নিত করেছে জঙ্গিরা। লক্ষ্য, অস্ত্র এবং প্রশিক্ষিত জঙ্গিদের গোপনে অনুপ্রবেশ করানো। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় একাধিক ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলির মাধ্যমে বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে আশঙ্কা।
ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নির্দেশে জম্মু ও কাশ্মীরে সীমান্ত নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সেনা সূত্রে খবর, রাতের বেলায় থার্মাল ইমেজিং যন্ত্রের সাহায্যে টহল বাড়ানো হয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের গতিবিধি ট্র্যাক করতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের এই নতুন কৌশল তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে এবং আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে তৈরি করা হয়েছে। তবে ভারতের প্রস্তুতি এখন অনেক পরিণত ও প্রযুক্তিনির্ভর। সেনা সূত্রে দাবি, যে কোনও পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখতে সক্ষম ভারতীয় বাহিনী।
অন্যদিকে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের গ্রামবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনও তৎপর হয়েছে। কিছু এলাকায় ইতিমধ্যেই ইভাকুয়েশন পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে রাখার জন্য। বিশ্লেষকদের মতে, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর পাকিস্তান আপাতত কূটনৈতিক ভাবে দুর্বল হলেও, সন্ত্রাসের আশ্রয়ে তারা ফের পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা করছে। ফলে জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্ত এলাকা আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে ভারতের জন্য।
