সন্তোষ মণ্ডল, পানাগড় : সম্প্রতি দেশের প্রধানমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রী ঢাকঢোল পিটিয়ে দেশ জুড়ে ১০০ টির বেশি অমৃত ভারত রেলস্টেশনের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেছিলেন। এরই মধ্যে পানাগড় অমৃত ভারত স্টেশনেরও উদ্বোধন করা হয়েছিল। মূলত যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে অত্যাধুনিক ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু উদ্বোধনের এক মাস যেতে না যেতেই বেরিয়ে পড়লো রেল দপ্তরের অব্যবস্থার ছবি।
সূত্রের খবর, রেল দপ্তর দাবি করেছে তারা যাত্রীদের জন্য সব রকম সুবিধার আয়োজন করে রেখেছেন, কিন্তু স্টেশনে ঢোকার রাস্তা পুরোটাই জলমগ্ন। জলের মধ্যে বড় বড় গর্ত। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে রেলযাত্রীদের অভিযোগ, যদি জল পার করে স্টেশনে ঢুকতেই হয় তাহলে কিসের জন্য এত ব্যবস্থা। গোটা রাস্তা বেহাল হয়ে পড়ে থাকার পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে বেশ কয়েকটি জায়গায় জলাশয় সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। সেই জল বার করারও কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না রেল দপ্তরের পক্ষ থেকে এমনটাই অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য পানাগড় স্টেশন লাগোয়া যে রাস্তাটি রয়েছে সেটি রেল দফতরের অধীন। ওই রাস্তা দিয়ে প্রত্যেকদিন কয়েকশো বালি বোঝাই ডাম্পার ও লরি পারাপার করে। নিত্যদিন ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে রাস্তাটি বেহাল হয়ে পড়েছে। যাত্রীদের জন্য যাতায়াত করা বিপদজনক হয়ে উঠেছে। যদিও এই ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষের কোন প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সদস্য সমীর বিশ্বাস জানিয়েছেন, “রেল দপ্তর পানাগড় স্টেশন কি অমৃত ভালো স্টেশন করেছে সেটা খুবই ভালো কথা কিন্তু মানুষের স্টেশনে পৌঁছাতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন। ওই রাস্তা দিয়ে রেল যাত্রা ছাড়াও বহু মানুষ যাতায়াত করেন, তাঁরাও নিত্যদিন সমস্যায় পড়ছেন। যানবাহন চলাচলের জন্য ওই রাস্তা আরও ভয়ানক হয়ে উঠেছে”। আসানসোল ডিভিশনের ডিআরএম ঘন ঘন পানাগড় স্টেশনে পরিদর্শনে এলেও রেল আধিকারিকরা তাঁকে এই রাস্তা কেনো দেখান না সেটা নিয়েই প্রশ্ন তার মনে। বিষয়টা নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে বলে তার দাবি।
তিনি বলেন, “স্টেশনের উত্তর দিক হোক বা দক্ষিণ দিক সব দিকে যাত্রীদের জন্য স্টেশনে প্রবেশের রাস্তা গুলি ঠিক ঠাক থাকলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে না”। তাঁর অভিযোগ, মাঝে মধ্যেই রাস্তা মেরামত হয় দেখা যায়। কিন্তু ফের কয়েকদিনের মধ্যেই আবার বেহাল হয়ে পড়ে। রাস্তা তৌরির জন্য যে সামগ্রী ব্যবহার হয় সেগুলি সম্ভবত নিম্নমানের থাকে বলে তার অনুমান। যার কারণেই সম্ভবত ডিআরএমকে এই রাস্তা পানাগড়ের আধিকারিকরা দেখান না।”
