নিজস্ব সংবাদদাতা : দলের দুই প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় শারীরিক কারণে আর আগের মতো সক্রিয় হতে পারছেন না, এমন অবস্থায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভায় দলনেতা করলো তৃণমূল। আর তার পরক্ষণেই লোকসভায় দলের চীফ হুইপ পদ থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ উস্কে দিল নতুন বিতর্ক। ইগোর কারণেই কি কল্যাণ সরে এলেন ? তাই যদি হয় তাহলে সেই ইগো কাকে নিয়ে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যা, নাকি মহুয়া মৈত্র ? এমনিতেই দলনেতার ক৯থা শুনে চীফ হুইপকে কাজ করতে হয়। সেক্ষেত্রে লোকসভায় অভিজ্ঞ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কি অভিষেকের কথা মতো চলতে নারাজ ? নাকি অভিষেক দলনেতা হওয়ায় মহুয়ার উঠে আসার সম্ভাবনায় আগে থেকে সরে দাঁড়ালেন কল্যাণ ?
শুধু ইস্তফা দেওয়া নয়, পরক্ষণে সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁর ইস্তফা নিয়ে মুখ খোলেন কল্যাণ। বলেন, “মমতাদি বলেছেন আমি নাকি ঠিক মতো সমন্বয় করে চলতে পারছি না। লোকসভায় কে কবে কখন বলবেন, তাও ঠিক করতে পারছি না। তাই আমি ইস্তফা দিয়েছি”। কিন্তু কথাগুলো অভিমানী মনে হলেও, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক যে কথায় কথায় অভিমানী হবেন না তা বুঝছে রাজনৈতিক মহল। সুতরাং, আসল কাহিনির সন্ধানে নানান গল্প বেরিয়ে আসছে রাজনৈতিক মহলে। তবে এটা সত্য যে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গা সামলানোর মতো সংসদীয় নিয়মকানুন জানা আর কোনো সাংসদ এই মুহূর্তে তৃণমূলে নেই। তাই প্রশ একটাই, যদি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তফা ফিরিয়ে না নেন তাহলে কে সামলাবেন এই দায়িত্ব ! যদিও তাঁর ইস্তফা এখনো গ্রহণ করেনি দল।
এরই পাশাপাশি দলীয় সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেব কল্যাণ। এদিন তৃণমূলের সংসদীয় দলের বৈঠক শুরু হওয়ার আগে দেখা যায়, পার্টি অফিসের উঠোনে ঘোরাঘুরি করছেন কল্যাণ। এমন সময় মহুয়া ঢুকতেই তিনি বলেন, যাহ আজকের দিনটা গেল। এর পর ভার্চুয়াল বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সাংসদদের সঙ্গে কথা বলেন। তার পর থেকেই নাটকীয় সব ঘটনা ঘটতে থাকে কল্যাণকে ঘিরে।
এই নিয়ে দিল্লিতে তো বটেই রাজ্য রাজনীতিতেও জোর জল্পনা। যদিও ইস্তফার পরই অভিষেক তাঁকে ফোনে ৭ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছেন। আপাতত লোকসভায় দলের সমন্বয়ের কাজটি করবেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এমনটাই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে তৃণমূল থেকে।
তবে কল্যাণ ও মহুয়ার মধ্যে এই সাপে নেউলে সম্পর্ক সবারই জানা। দুজনের কেউই কাউকে ছেড়ে কথা বলেন না। কিছুদিন আগে কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, আমি সব নারীকেই পছন্দ করি কিন্তু ঘৃণা করি মহুয়া মৈত্রকে। ফলে এটা নিয়ে তেমন কোনো রহস্য থাকতে পারে না। এদিন মহুয়া পার্টি অফিসে ঢুকতেই কল্যাণ যে রকম বিড়বিড় করে ওঠেন, তা দেখে এটা বোঝার উপায় নেই যে শুধু তাঁর উপর রাগ করেই পদ ছাড়লেন কল্যাণ। ফলে এর আসল রহস্য জানতে আপাতত ৭ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।
