ওঙ্কার ডেস্ক: সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই চাপে সরকার। অধিবেশন শুরুর পর এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার জন্য নীরবতা পালন হয়। কিন্তু এরপরই যেন আচমকাই বদলে যায় দৃশ্যপট। পহলগাম হামলা আর অপারেশন সিঁদুর নিয়ে তুমুল শোরগোল শুরু হয় বিরোধী শিবিরে। লোকসভার ভেতর স্লোগান উঠতে থাকে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস!’ চারদিক গর্জে ওঠে কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলির কণ্ঠে। অপারেশন সিঁদুর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি দাবি করেন বিরোধীরা। কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপালের অভিযোগ, ‘বাহিনীকে নিয়ে বিজয় উৎসবের ঢাকঢোল বাজানো হচ্ছে, অথচ সংসদে স্বচ্ছ ভাবে কিছুই বলা হচ্ছে না। এভাবে দেশের জনগণকে অন্ধকারে রাখা যায় না।’
পরিস্থিতি সামাল দিতে উঠে দাঁড়ান স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি স্পষ্ট জানান, সংসদের নিয়ম ভেঙে স্লোগান-হইচই বন্ধ করতে হবে। সব ইস্যু নিয়েই সরকার জবাব দেবে, আলোচনা হবে, তবে তা শৃঙ্খলা মেনে। কিন্তু হট্টগোল না থামায় মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই সভা দুপুর ১২টা পর্যন্ত মুলতুবি ঘোষণা করতে বাধ্য হন স্পিকার।
অধিবেশন শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রীর সাফ কথা ছিল অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় সেনার লক্ষ্যভেদ ১০০ শতাংশ সফল হয়েছে। ‘মাত্র ২২ মিনিটে জঙ্গি ঘাঁটি মুছে দিয়েছে ভারতীয় বাহিনী। গোটা বিশ্ব দেখেছে ভারতের শক্তি। এই অধিবেশন হল বিজয়ের উৎসব।’ পহলগামের জঙ্গি হামলার কথা উল্লেখ করে মোদী বলেন, ‘গোটা বিশ্ব জানে, পাকিস্তান মদতপুষ্ট সন্ত্রাস কতটা ভয়ঙ্কর। আমাদের সংবিধানই বন্দুক আর বোমার বিরুদ্ধে জিতেছে।’
মহাকাশে দেশের সাফল্য টেনে মোদী জানান, ভারতের জাতীয় পতাকা এখন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছেছে। পাশাপাশি ২০১৪ সালের আগে দেশের অর্থনৈতিক হাল তুলে ধরে দাবি করেন, ‘তখন মুদ্রাস্ফীতি দ্বিগুণ হারে ছিল, আজ তা ২ শতাংশের কাছাকাছি। দেশে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যরেখা পেরিয়ে এসেছেন। আজ ভারত তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দিকে দ্রুত এগোচ্ছে।’
কিন্তু সংসদে বিরোধীরা অবশ্য থামতে রাজি নয়। স্পিকারের বারবার আশ্বাস সত্ত্বেও স্লোগানের ঝড় থামেনি। বাদল অধিবেশনের শুরুতেই স্পষ্ট অপারেশন সিঁদুর আর পহলগাম নিয়ে চলতে চলতে সরকারের গলায় দড়ি টানতে বদ্ধপরিকর বিরোধীরা। ফলে সংসদের চত্বরে টানাপড়েন যে এবার আর সহজে থামছে না, তা স্পষ্ট হয়ে গেল প্রথম দিনেই।
