ওঙ্কার ডেস্ক: শনিবার রাত নামতেই এক ভয়ানক দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া থানা এলাকার সিদ্ধা বাজার। বেপরোয়া গতির এক ১৬ চাকার লরি মুহূর্তের মধ্যে চারটি দোকান পিষে দেয়, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অন্তত তিন জনের। পুলিশ আশঙ্কা করছে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭–৮ জন পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত প্রায় ৮টা ১৫ মিনিট নাগাদ কোলাঘাট থেকে মেছোগ্রামগামী ওই লরি আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়ানো চারটি দোকানের উপর উঠে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় একটি স্টেশনারি দোকান, একটি পান দোকান, একটি মিষ্টির দোকান এবং আরও একটি ছোট দোকান।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লরিটি এতটাই দ্রুতগতিতে আসছিল যে চালক ব্রেক করারও সুযোগ পাননি। প্রচণ্ড ধাক্কায় দোকানগুলির টিনের চাল, কাঠের ফ্রেম ও দেওয়াল গুঁড়িয়ে যায়। দোকানের ভিতরে থাকা কয়েকজন ক্রেতা ও কর্মীও পিষে যান লরির চাকার তলায়।
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পাঁশকুড়া থানার পুলিশ ও দমকল বাহিনী। ক্রেন দিয়ে লরিটি সরিয়ে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। রাতেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দুই জনের দেহ উদ্ধার হয়, পরে আরও এক জনের দেহ উদ্ধার হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, আরও কয়েকজন এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, লরির চালক ও খালাসি দু’জনেই দুর্ঘটনার সময় মদ্যপ ছিলেন। ঘটনার পর তাঁদের জীবিত অবস্থায় আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
দুর্ঘটনার জেরে কিছুক্ষণের জন্য ৬ নং জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এলাকায় নেমে আসে আতঙ্কের ছায়া। ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা দ্রুত ভারী যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণ, রাতের বেলায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি এবং বাজার এলাকায় স্পিড ব্রেকার বসানোর দাবি তুলেছেন।
