বিরতি-বিরামে থাকি
গৌরব চক্রবর্তী
১।
কবির দু-হাতে হাত খোলা থাকে পদ্মের পাতায়
কত জল ধরে রাখি, কত জল গড়িয়ে যে যায়
কে কার বিস্মৃতি নিয়ে কার দিকে তুলেছে আঙুল
কত কিছু ঠিক লিখি কত কিছু লিখে রাখি ভুল
এ কাব্য প্রয়াস হল কবিতার প্রকৃত সাধনা
সে সত্য কথাটি ছাড়া কিছুতেই মিথ্যা লিখব না
২।

রক্তের গতির তেজ এখন কিছুটা ধীরে বয়
যারা সয়ে যেতে জানে তারা চিরকাল টিকে রয়
লেখার প্রবাহ চলে ভেতরে-ভেতরে ঢিমেতালে
জেনে রেখো, ভাত বাড়ে হাঁড়িতে পুরোনো কেনা চালে
আমি সেই পুরাতন চালের দানার মতো লোক
তোমরা নাদান খোকা সেজে থাকো বন্ধ করে চোখ
৩।

বিরতি-বিরামে থাকি, নিজের ইচ্ছার আমি দাস
কারোর ছেটানো কাদা না-মাখাই আমার অভ্যাস
শাসকের ভুলে আমি ভুল ধরি যদি থাকে ভুল
শাসকের ভালো কাজে হাতে তুলে দিতে পারি ফুল
সরকার আসে-যায়, কবির অস্তিত্ব চিরকাল
পরোয়া করি না কিছু আমি শুধু শব্দের রাখাল
৪।

ভালোর ভালোটি আমি, খারাপের ভীষণ খারাপ
আজ যারা ‘বাবা’ হলি, জেনে রাখ, আমি তোর বাপ
তেমনই ন্যাংটো আমি যার নেই বাটপারে ভয়
আমাকে হারাতে হলে শিখে নিতে হবে পরাজয়
মনের মাধুরীটুকু কবিতার শব্দতরুজাল
আমার শিকড়ে শিব আমার মাথায় মহাকাল
৫।

শ্মশানে-মন্দিরে নয়, ধুলো মেখে বসে আছি ঘরে
লেখার খাতায় রাখা শব্দগুলো রোজ নড়েচড়ে
অক্ষরের বীজ নিয়ে দূরে চলে যাব একদিন
কবিতা লেখার মতো জীবন কি ততটা রঙিন?
কোন স্পর্শ খুলে রাখি? কোন গানে নদী ভাঙে পাড়?
জীবনের মতো করে জীবন চলেছে রোজকার
৬।

শব্দে কোনও দোষ নেই সব শব্দ আমার বিস্ময়
লিখেছি ততটা ঠিক যতখানি লিখে দিতে হয়
কিছুটা অলস রোদে কিছুটা তন্দ্রায় জাগা ভোরে
বাকি সব শব্দগুলো আমার আঙুল-ধরে ঘোরে
আসলে কবির জাত! তোমার বোধের বহুদূর
স্বল্প মেধা নিয়ে তুমি রাত ভাবো যখন দুপুর
৭।

আমি পুড়ে সোনা হলে তুমি কি ভেবেছ, শুধু ছাই?
এগিয়ে যাওয়ার আগে পিছনে কয়েক পা-ও যাই
চুপ করে বসে থাকি আসলে নিজেকে রাখি মেপে
তোমার জগৎ ওঠে কুয়োর ভেতরে ফুলেফেঁপে
সারাটা জীবন ধরে যা কিছু লিখেছ চেপে দম
আর যা লেখোনি তুমি সে সবও আমার থেকে কম
৮।

নিজেকে গেলাসে ঢেলে গিলে ফেলি, নিজেকে চেবাই!
তোরা কোন ছার, আমি অবশেষে তোকে ভয় পাই?
কত দাদা-বাবা আছে? কত তোর আছে সম্বল?
কত হাতি গেল তলে তবু মশা বলে কত জল!
বাঁদরের মতো যারা লাফিয়ে বেড়ায় দূরে-কাছে
তাদের মাদারি আমি আমার ইচ্ছায় তারা নাচে