নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা: গ্রামে ঢুকছে লেদার কমপ্লেক্সের দূষিত জল, মারা যাচ্ছে গৃহপালিত প্রানীরা, কৃষি কাজেও ক্ষতি। চিন্তায় কপালে হাত সাধারণ মানুষের । একই চিত্র খোরখালি, ঝাউখালি, দুর্গাপুর, চন্ডিপুর সহ একাধিক আদিবাসি অধ্যুষিত গ্রামে।
এশিয়ার বৃহত্তম লেদার কমপ্লেক্সে দূষিত জলের কারণে চরম দুর্ভোগ সাধারণ মানুষ। ট্যানারির দূষিত জল প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে নিকাষি নালা দিয়ে খালে পরার কথা। কিন্তু বাস্তবে অন্য চিত্র।। কমপ্লেক্স জুড়ে ট্যানারির দূষিত ও কেমিক্যাল মিশ্রিত জল এখন রাস্তার উপর। চর্মনগরীর ঘেরাটোপ পেরিয়ে দূষিত জল পৌঁছে গিয়েছে আশেপাশের গ্রামে। যার কারণে মারা যাচ্ছে গৃহপালিত প্রানীরা। সমস্যায় মাছ চাষ, কৃষিকাজ।
কলকাতা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে বাসন্তী রাজ্যসড়কের পাশে এশিয়ার বৃহত্তম চর্মনগরী কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স। প্রায় ৪.৫ স্কয়ার কিলোমিটার জুড়ে যার অবস্থান। কলকাতা লেদার কম্পপ্লেক্স ট্যানারি এ্যাসোসিয়েশন (CLCTA) এতদিন যার দেখভাল করে আসছেন। যার চেয়ারম্যান রাজ্যের মন্ত্রী জাভেদ খাঁনের পুত্র ইমরান খাঁন। সম্প্রতী ইমরান খাঁনের সঙ্গে ক্যানিং পুর্বের বিধায়ক সওকাত মোল্লার ঠান্ডা লড়াই এর কারণে সরকার পক্ষ থেকে সেক্টর সিক্সের আওতায় লেদার কমপ্লেক্সকে আনার ঘোষণা করেছে। আর এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে সমস্যায় সাধারণ মানুষের।
সওকাত মোল্লার দাবি, সেক্টর সিক্সের মাধ্যমে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু ইমরান খাঁন প্রতি মাসে ট্যানারির মালিকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে যাচ্ছে, কোন কাজ করছে না। দুইএকদিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দলোন হবে। অন্যদিকে ইমরান খাঁনকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। তিনি বলেন, এই বিসয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করার চেষ্টা করবেন।
কমপ্লেক্স পেরিয়ে জল প্রায় আট কিলোমিটার দূরে খোরখালি, ঝাউখালি, দুর্গাপুর, চন্ডিপুর সহ একাধিক আদিবাসি অধ্যুষিত গ্রামে ঢুকে পরেছে। যে গ্রামের এক দিক দিয়ে বয়ে গিয়েছে শুরু খাল। যে খালের উপর নির্ভর করে এলাকার গরীব সাধারণ মানুষেরা কৃষিকাজ, মাছচাষ, এমনকি বাড়ির নানা কাজ করে থাকেন। ট্যানারির দূষিত কেমিক্যাল জল গ্রামে ঢুকে যাওয়ায় সমস্যায় পরেছে তারা।
কৃষিকাজ, মাছচাষ এমনকি বাড়ির কাজে জল ব্যবহার করতেই পারছেই না তার উপর প্রতিদিন গৃহপালিত প্রানী হাঁস মুরগী মারা যাচ্ছে। সম্মিলিত ভাবে এলাকার বিধায়ক সওকাত মোল্লাকে ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন তারা। আশ্বাস পেয়েছেন। বাস্তবে আদেও কিছু হবে নাকি এই দুর্ভোগ চলতেই থাকবে? প্রশ্ন আদিবাসি মহল্লা জুড়ে।
