ওঙ্কার ডেস্ক : দিল্লি পুলিশের পাঠানো নোটিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দারস্থ হচ্ছেন আইসা সভানেত্রী নেহা বোরা। ওই নোটিশে পুলিশ জানিয়েছিল, ‘শান্তি বজায় রাখার’ শর্তে একজন স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে বন্ড সই করতে হবে নেহাকে। গত ১৬ অক্টোবর নেহা বোরাকে প্রতিরোধমূলক আটক-এর আওতায় নেওয়া হয়েছিল। সে সময় তিনি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ মিছিলে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। ১৭ অক্টোবর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। হাইকোর্টে এখন দশেরার ছুটির কারণে কাজ বন্ধ। তাই নেহা বোরা সম্ভবত জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি জানাবেন।
দিল্লি পুলিশের নোটিশে নেহা বোরাকে ১৯ অক্টোবর স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হয়ে ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’-র ১২৬ নম্বর ধারার অধীনে একটি বন্ড সই করতে বলা হয়েছে। ১২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি এমন বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থাকে যে তিনি শান্তিভঙ্গ করতে পারেন, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারেন বা এমন কোনো অন্যায় কাজ করতে পারেন যার ফলে শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (SEM) তাঁকে শান্তি বজায় রাখার জন্য বন্ড সই করার নির্দেশ দিতে পারেন।
এদিকে, ককরোচ জনতা পার্টি-র দুই নেতার জামিনের আবেদনের শুনানি ঘিরে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ করেছে দিল্লি পুলিশ। এই ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি ‘নন-কগনিজ়েবল রিপোর্ট’ রুজু করেছে দিল্লি পুলিশ। এরই প্রেক্ষাপটে সিজেপির অভিযোগ, তাদের দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসের জামিনের আর্জি শুনানি প্রক্রিয়ায় ‘দেরি’ করা হচ্ছে। তারা একে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে সরব হয়েছে।
যন্তরত মন্তরকে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর সিজেপির এই দুই নেতা জাতীয় পতাকা হাতে গেট টপকে সেখানে প্রবেশ করেছিলেন। এরপরই পুলিশ আশুতোষ এবং সৌরভকে গ্রেফতার করে। গত ১৪ অক্টোবর দিল্লির স্পেশ্যাল এগ্জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের পাঁচ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। দু’জনেই বর্তমানে তিহাড় জেলে বন্দি। তাদের জামিন চেয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের দ্বারস্থ হয় সিজেপি। এরই মধ্যে স্পেশ্যাল এগ্জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ উঠল। যদিও কে বা কারা হুমকি দিয়েছেন সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ্যে আসেনি। কি ধরণের হুমকি, তাও জানা যায়নি। তবে, এমন ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন ছাড়া কোনো তদন্ত শুরু করতে পারে না পুলিশ। এরই কারণে আশুতোষ ও সৌরভের জামিন মামলার শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিজেপির আইনি পরামর্শদাতা দলের প্রধান রত্না সিংহ। উল্লেখ্য, এই মামলার ক্ষেত্রে স্পেশ্যাল এগ্জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করছেন দিল্লির অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার এক আধিকারিক।