ওঙ্কার ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা ব্লকে শনিবার থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, কারণ তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের উদ্যোগে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর করা হচ্ছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য ৬ ডিসেম্বর দিনটি নির্দিষ্ট করা হয়েছে , আর এই তারিখকে ঘিরেই বিতর্ক সবচেয়ে বেশি। কারণ ঠিক এই দিনেই কয়েক দশক আগে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত একটি দিনেই নতুন মসজিদ নির্মাণের সূচনা করা হবে এ কথাই রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও চাঞ্চল্যকর করেছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কবির বলছেন, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত থেকেই মসজিদ নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর দাবি, মসজিদটি শুধু ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণ করবে, “কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়।” তিনি জানিয়েছেন, “কোরান পাঠ, নামাজ ও পরে সাধারণ ভোজের আয়োজন করা হবে”। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, এই পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে প্ররোচিত উৎসব হিসেবে ধরা হচ্ছে। এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর নিজস্ব তহবিল এবং ইসলামী সংগঠনের সহযোগিতায় ২০ বিঘা জমিতে মসজিদ, একটি কলেজ, একটি হাসপাতাল ও বিশতলাবাস তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টতা এবং সাম্প্রদায়িক রঙ পাওয়ার সম্ভাবনাই প্রশাসনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। প্রথম থেকেই স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছে। বেলডাঙা ও আশপাশের এলাকাজুড়ে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রধান সড়ক, বাজার এবং অনুষ্ঠান স্থলকে নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়মিত টহল চলছে। প্রশাসন জানিয়েছে, বড় জমায়েত হলে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই কোনও পরিস্থিতিই অগ্রাহ্য করা হচ্ছে না।
এদিকে রাজনৈতিক অন্দরে বিরাট প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। শাসকদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমন সংবেদনশীল দিনে প্রকাশ্যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলে তার ভুল ব্যাখ্যা হতে পারে, যা সামাজিকভাবে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে। দলের ভেতর থেকেই অবশেষে কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং হুমায়ুন কবিরকে সাসপেন্ড করা হয়। যদিও কবির জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত তাঁকে তাঁর পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে দিতে পারে না। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, এই প্রকল্প মানুষের, এবং দলীয় নিষেধাজ্ঞা কোনও বাধা নয়।
এই ঘটনার জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও মতবিভাজন তৈরি হয়েছে। কেউ বলছেন, মসজিদ নির্মাণ ধর্মীয় প্রয়োজন, তা হওয়া উচিতই। আবার এমন মানুষও আছেন, যাঁরা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে দাবি করছেন, কারণ তাঁদের মতে অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হবে।
অন্যদিকে, এমনও মত পাওয়া যাচ্ছে যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাত তৈরি করতে পারে। এই বিতর্ক মূলত সময়কে ঘিরে, কারণ ভিত্তিপ্রস্তর যে কোনও দিনে হতে পারত, কিন্তু ৬ ডিসেম্বর এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই অতীতের স্মৃতি সামনে চলে এসেছে।
