কলকাতা: একসময় দুর্গাপুজো মানেই ছিল তৃণমূলের জনসংযোগের বড় মঞ্চ। উদ্বোধনের হিড়িক, নেতাদের উপস্থিতি, পাড়ায় পাড়ায় উৎসবের আমেজ তৈরি করত শাসক শিবিরই। এবার সেই ছবিটাই অনেকটা উল্টো। পালাবদলের পর প্রথম পুজোয় তৃণমূলের অনেক পরিচিত মুখই ময়দানের বাইরে।
দলের একেবারে শুরুর দিনের কথা মনে করিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কালীঘাটের ঘরে মা তারার পা ছুঁয়ে চারজন শপথ নিয়েছিলেন, কেউ কাউকে ছেড়ে যাবেন না। তাঁরা ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সি, মুকুল রায় এবং তিনি নিজে। তাঁর আক্ষেপ, সেই দল আজ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, “মমতা ভুল থেকে শিক্ষা নেয়নি। যখন যে ডুবেছে, তার হাত ছেড়ে দিয়েছে। এখনও নিজেরটুকু নিয়েই রয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি মুকুল রায়ের অভাব বোধ করার কথাও বলেছেন। তাঁর মতে, মুকুল সুস্থ থাকলে এই সঙ্কট সামলে দিতে পারতেন, মমতাকে ঘিরে থাকা লোকেরা তাঁকে ভুল বুঝিয়েছে।
এবার পুজো উদ্বোধনেও ফিকে তৃণমূলের উপস্থিতি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে কোনও পুজো উদ্বোধন করেননি, পাড়ার পুজো কালীঘাট মিলন সংঘে দুই খুদের হাত দিয়ে ফিতে কাটিয়েছেন। তবে এমন দিনও যে কখনও আসবে, তা হয়তো কল্পনাও করেননি নেত্রী মমতা।
নাকতলা উদয়ন সংঘের প্রাক্তন কর্তা পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবার কোনও পুজোর সঙ্গে যুক্ত নন, কোনও উদ্বোধনের আমন্ত্রণও নেই। জেল থেকে ফেরার পর নাকতলার বাড়িতেই পুজো কাটাচ্ছেন, পুরনো বন্ধুদের আসার কথা রয়েছে।
এর মধ্যে ব্যতিক্রম তৃণমূলের প্রথম জয়ী বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। নিজের হাজরা পার্কের পুজো ছাড়াও বালিগঞ্জ ও পুরনো কেন্দ্র রাসবিহারীর বেশ কিছু পুজো উদ্বোধন করেছেন। বরাবরের মতো এবারও হাজরা পার্কে অষ্টমীর সন্ধ্যারতি করবেন। তাঁর কথায়, এবারের পুজো কিছুটা হালকা মেজাজে, আমন্ত্রণ সেরে নিজের মতো পাড়ায় ঘুরবেন।