ওঙ্কার ডেস্ক: পাঞ্জাবে ঘুষ কাণ্ডে এক আইপিএস অফিসারকে গ্রেফতার করল সিবিআই। অভিযুক্ত ওই আধিকারিকের নাম হরচরণ সিং ভুল্লার। তিনি পাঞ্জাব পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) পদে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, এক ব্যবসায়ীকে ভুয়ো মামলায় ফাঁসানো হবে বলে ভয় দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ ঘুষ দাবি করেছিলেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা পদক্ষেপ নেয়।
সূত্র অনুযায়ী, হরচরণ সিং ভুল্লার সরাসরি ঘুষ নেননি। তাঁর হয়ে এক মধ্যস্থতাকারী অর্থের লেনদেন করছিলেন বলে জানা গেছে। সিবিআই সেই লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করে ফাঁদ পাতে এবং তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার পর অফিসারকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল সম্পত্তি উদ্ধার হয়। উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা নগদ অর্থ, প্রায় দেড় কেজি সোনার গয়না, একাধিক দামি ঘড়ি, দুটি বিলাসবহুল গাড়ি, যেমন অডি ও মার্সিডিজ। এছাড়াও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ব্যাংক ডকুমেন্ট বাজেয়াপ্ত করেছে সিবিআই।
জানা গিয়েছে, হরচরণ সিং ভুল্লার ২০০৯ সালের ব্যাচের আইপিএস অফিসার। তিনি রোপার রেঞ্জের দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বের সুযোগ নিয়েই একাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করতেন তিনি। তদন্তকারীদের দাবি, এই ঘটনা একটি বৃহত্তর দুর্নীতির জালের অংশ হতে পারে। তাই শুধু ভুল্লার নয়, তাঁর সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক ও মধ্যস্থতাকারীর দিকেও নজর দিয়েছে সিবিআই।
এই ঘটনার পর পাঞ্জাব পুলিশের একাংশে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এমন উচ্চ পদস্থ অফিসার দুর্নীতিতে জড়িত থাকলে সাধারণ মানুষ পুলিশের প্রতি আস্থা রাখবে কীভাবে। ইতিমধ্যেই হরচরণ সিং ভুল্লারকে আদালতে পেশ করা হয়েছে। সিবিআই তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়া, দুর্নীতি দমন আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘুষের টাকার উৎস এবং সেই অর্থের লেনদেন কার মাধ্যমে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থের বৈধ উৎস সংক্রান্ত নথিও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সম্পত্তি এবং পরিবারের সদস্যদের নামেও তদন্ত শুরু হয়েছে। সিবিআই-এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে পুলিশের অভ্যন্তরে দুর্নীতির গভীরতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের কাণ্ড রুখতে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
