নিজস্ব সংবাদদাতা : আরজি কর মেডিকেল কলেজে মহিলা জুনিয়র ডাক্তার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর কলকাতার হাসপাতাল গুলির নিরাপত্তা নিয়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল প্রশাসন। আগামী ৯ আগস্ট সেই অমানবিক ঘটনার এক বছর পুর্ন হবে। আর কি কর মেডিক্যাল কলেজের বর্তমানে নিরাপত্তার কি অবস্থা, কোন কোন কাজ হতে এখনও বাকি সে নিয়ে সরব হয়েছেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো।
এক বছর আগের আরজি কর হাসপাতালের চিত্র এখন আমূল বদলে গেছে। গত বছরের অগস্টে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এসেছে বড় পরিবর্তন। সিভিক ভলান্টিয়ারদের হাত থেকে দায়িত্ব চলে গেছে পুলিশের হাতে, সঙ্গে মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআইএসএফ। হাসপাতালের ভেতর-বাইরে দিন-রাত চলছে নজরদারি, বাড়ানো হয়েছে আলোর ব্যবস্থা এবং বসানো হয়েছে শত শত সিসিটিভি ক্যামেরা।
সরকারি তথ্য বলছে, বর্তমানে আরজি কর চত্বরে মোতায়েন আছেন মোট ২৯৩ জন নিরাপত্তাকর্মী। সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩২-এ। চিকিৎসকদের জন্য আলাদা বিশ্রামঘর তৈরি হয়েছে, জল পরিশোধনকারী যন্ত্র বসানো হয়েছে এবং রাতের শিফটে হাতের কাছে ন্যূনতম পরিষেবা নিশ্চিত করার জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে। অন্ধকার জায়গায় লাগানো হয়েছে নতুন আলো, যাতে হাসপাতালের ভেতরে কোথাও অন্ধকার না থাকে।
আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতোর মতে, পরিকল্পনা থাকলেও এখনো বসানো হয়নি ২৭০টি ‘প্যানিক বাটন’, যদিও স্থান চিহ্নিত করা হয়ে গেছে। সিসিটিভির কভারেজও সব তলায় সমান নয় জরুরি বিভাগের চতুর্থ থেকে সপ্তম তলায় ক্যামেরার ঘাটতি রয়ে গেছে। চিকিৎসকদের বিশ্রামঘর থাকলেও নারী-পুরুষের জন্য আলাদা ব্যবস্থা হয়নি, এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত বায়োমেট্রিক হাজিরা পদ্ধতিও কার্যকর হয়নি।
ড.অনিকেত আরও জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার ফলে নিরাপত্তা আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে, কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী না থাকলে পরিস্থিতি কী হবে, সেই প্রশ্ন রয়ে গেছে। তাঁর দাবি, প্রথম ধাপে যে পরিমাণ সিসিটিভি বসানো হয়েছিল, পরবর্তী ধাপে ততটা হয়নি, ফলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এখনও নজরদারির বাইরে। আরও বড় সমস্যা হল, হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ যদি অপরাধে জড়িত থাকেন, তবে সিসিটিভির ফুটেজ নষ্ট করাই সম্ভব। তাঁর কথায়, “এই মূল সমস্যাগুলো দূর না করলে প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না”।
হাসপাতালের অধিকাংশ কর্মী ও চিকিৎসক সরাসরি মন্তব্য করতে অনিচ্ছুক হলেও স্বীকার করেছেন আগের তুলনায় এখন রাতের ডিউটি অনেক বেশি নিশ্চিন্তে করা যায়। তবুও, এক বছরের মাথায় পরিষ্কার হচ্ছে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাজ এখনো অসম্পূর্ণ।
