ওঙ্কার ডেস্ক : হরিয়ানার গুরগাঁওয়ে ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। রাজ্য স্তরের টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদবকে গুলি করে খুন করলেন তাঁরই বাবা দীপক যাদব। ঘরের ভিতর, রান্নাঘরে মেয়েকে লক্ষ্য করে একের পর এক পাঁচ রাউন্ড গুলি চালান তিনি। তিনটি গুলি রাধিকার শরীর বিদ্ধ করে, বাকি দু’টি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মাত্র ২৫ বছরের এই প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পেছনে রয়েছে এক চরম সমাজিক মানসিকতা আর গোঁড়ামি। দীপক যাদব স্বীকার করেছেন, মেয়ের রোজগারে সংসার চলছিল, বিষয়টি তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না। এলাকার মানুষজনও তাঁকে এই নিয়ে তির্যক মন্তব্য করতেন। ‘‘মেয়ের টাকায় খেতে হচ্ছে’’ এই কথাতেই ভেঙে পড়ছিল দীপকের অহং। তাই মেয়েকে বার বার নিজের টেনিস অ্যাকাডেমি বন্ধ করতে বলেছিলেন। কিন্তু রাধিকা নিজের স্বপ্ন ছাড়তে রাজি ছিলেন না।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা, গুরগাঁওয়ের সুশান্ত লোক-২-এর তিনতলা বাড়ির দোতলায় রান্নাঘরে ছিলেন রাধিকা। সেই সময় পিস্তল হাতে ঢুকে পড়েন বাবা দীপক। পিছন থেকে গুলি চালাতে থাকেন। পর পর তিনটি গুলি রাধিকার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে বিঁধে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দেশের অন্যতম উদীয়মান টেনিস তারকার। ৫১ বছরের দীপক পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি গত ১৫ দিন ধরে অবসাদে ভুগছিলেন। কন্যার উপার্জনে সংসার চলায় প্রতিবেশীদের বিদ্রুপে তাঁর আত্মসম্মান বোধে চোট লাগে। সেই ক্ষোভই শেষ পর্যন্ত এই মর্মান্তিক ঘটনার রূপ নেয়। এফআইআরে অবসাদের উল্লেখও রয়েছে। ঘাতক পিস্তলটি লাইসেন্সধারী হলেও পুলিশ তা বাজেয়াপ্ত করেছে। অভিযুক্ত দীপক যাদব বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে।
রাধিকা আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশনের ডাবলস ক্রমতালিকায় ১১৩ নম্বরে ছিলেন। সম্প্রতি চোটের জন্য ফিজিওথেরাপি চলছিল তাঁর। গুরগাঁওয়ে নিজেই একটি টেনিস অ্যাকাডেমি চালাতেন। বহু তরুণ প্রতিভাকে গড়ে তুলছিলেন তিনি। রাধিকার এই অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্রীড়ামহলে।
