ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের রাজনৈতিক মহলে হঠাৎ করেই চাঞ্চল্য ছড়াল এক বড়সড় দলবদলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। আম আদমি পার্টির অন্যত্তম মুখ এবং রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা দল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিলেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তে শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানই বদলায়নি, বরং আপ-এর সাংসদ দলেও বড়সড় ভাঙন ধরেছে। তাঁর সঙ্গে আরও ছয়জন সাংসদ দলত্যাগ করে বিজেপিতে শামিল হওয়ায় ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দলবদলের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। জানা গিয়েছে, আপ-এর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে রাঘব চাড্ডার মতবিরোধ ক্রমশ তীব্র হচ্ছিল। দলের অভ্যন্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছিল বলেই সূত্রের দাবি। সেই অস্বস্তির আবহেই শেষ পর্যন্ত দল ছাড়ার পথ বেছে নেন তিনি।
একটি সাংবাদিক বৈঠকে রাঘব চাড্ডা জানান, রাজ্যসভায় আপের মোট সাংসদদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ তাঁর সঙ্গে এই সিদ্ধান্তে সহমত পোষণ করেছেন। তাঁদের দাবি, সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দলত্যাগ নয়, বরং “মার্জার” বা একীভূত হওয়ার পথেই তাঁরা এগিয়েছেন বলে তাঁর বক্তব্য। এই প্রসঙ্গে সংবিধানের দশম তফসিলের বিষয়টিও সামনে আসে, যেখানে বলা হয়েছে, কোনও দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একসঙ্গে অন্য দলে যোগ দিলে তা দলবদল হিসেবে গণ্য হয় না।
চাড্ডা তাঁর বক্তব্যে আরও দাবি করেন, আম আদমি পার্টি তার প্রাথমিক আদর্শ থেকে সরে এসেছে। দলের ভিতরে নীতিগত অবস্থান ও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। অন্যদিকে বিজেপির নেতৃত্ব, নীতি এবং দেশের উন্নয়নের রূপরেখার প্রতি আস্থা রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান।
এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আপ নেতৃত্ব। দলটির পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে “বিশ্বাসঘাতকতা” বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে দল ভাঙানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দলবদল শুধু সংখ্যার অঙ্কে নয়, প্রতীকী দিক থেকেও আপ-এর জন্য বড় ধাক্কা। বিশেষ করে রাজ্যসভায় দলের শক্তি কমে যাওয়া ভবিষ্যতে আইন প্রণয়ন এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সংসদীয় রাজনীতিতে তাদের অবস্থান আরও মজবুত করতে পারে। পুরো ঘটনাকে ঘিরে এখন জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই দলবদলের প্রভাব কোন দিকে গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।