ওঙ্কার ডেস্ক: শাসক দলের ভোট চুরি নিয়ে এর আগে দুইবার সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ৫ নভেম্বর বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি আরও কোনো বড় প্রমাণ নিয়ে আসবেন তা তিনি আগেই বলেছিলেন। তাঁর কথায় ‘হাইড্রজেন বোম’ ফেলবেন শাসক দলের বিরুদ্ধে। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি প্রমাণ সহ দেখিয়েছেন হারিয়ানা তে প্রায় ২৫ লক্ষ ভুয়ো ভোটার রয়েছে, যার জেরেই কংগ্রেস মাত্র ২২ হাজার ভোটে হেরেছিলেন সেখানে। অন্যদিকে বিজেপি কংগ্রেসের এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিচ্ছে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, হরিয়ানা রাজ্যের ভোটার তালিকায় ভয়ঙ্কর গড়মিল ধরা পড়েছে। এমনকি এক বিদেশি মহিলার ছবি নাকি ব্যবহার করা হয়েছে একাধিকবার। রাহুলের দাবি, এক ব্রাজিলীয় মডেলের একই ছবি হরিয়ানার ভোটার তালিকায় অন্তত ২২ বার ব্যবহৃত হয়েছে। কখনও তাঁর নাম দেওয়া হয়েছে সীমা, কখনও স্বীতি, কখনও সরস্বতী বা রেশমি, এইভাবে ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে একই ছবির পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
রাহুল গান্ধী বলেন, এটি কোনও একক ঘটনা নয়, বরং একটি বৃহৎ এবং সংগঠিত কারচুপি। তাঁর কথায়, “এই ঘটনা প্রমাণ করে, সারা দেশে ভোটার তালিকা বদলের একটি কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত অভিযান চলছে। এটি গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত।” তিনি আরও দাবি করেন, হরিয়ানার নির্বাচনী তালিকায় অন্তত আড়াই লক্ষ নকল বা দ্বৈত ভোটারের নাম রয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার উপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়, ভোটার তালিকা প্রকাশের পর কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক আপিল বা অভিযোগ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জমা পড়েনি। এমনকি ভোটগ্রহণের দিন বুথ পর্যায়েও কংগ্রেসের কোনও প্রতিনিধি এই বিষয়ে আপত্তি জানাননি বলে দাবি নির্বাচন কমিশনের।
রাজনৈতিক মহলে রাহুলের এই অভিযোগে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। বিজেপি শিবিরের মতে, পরাজয়ের ভয়ে কংগ্রেস নেতারা এখন অযথা বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইছেন। অন্যদিকে কংগ্রেসের বক্তব্য, এই তথ্যপ্রমাণ সরকার ও কমিশনের নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলে। ফলে হরিয়ানার ভোটার তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক তরজার পারদ আরও চড়েছে।
