ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের ডোনাল্ড ট্রাম্পের নোবেল মনোনয়ককে সমর্থন না করাতেই নয়া দিল্লির উপর চটে গেছেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আর নিজের স্বার্থ চরিতার্থ না হওয়ায় দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করেছেন তিনি। ভারতের সঙ্গে মার্কিন মুলুকের সম্পর্কের অবনতির কারন হিসাবে বিস্ফোরক মন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত রহম এমান্যুয়েল। তিনি আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়কালে চিফ অফ স্টাফ ছিলেন। এম্যানুয়েলের কথায়, “ট্রাম্পের স্বভাবসুলভ একরোখা মনোভাব এবং পাকিস্তান থেকে প্রাপ্ত টাকা দুই-ই মিলিয়ে গত চার দশকে গড়ে ওঠা কূটনৈতিক সম্পর্ক ধ্বংসের পথে।”
তিনি বলেন, বিগত চার দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে যে কৌশলগত ও পারস্পরিক আস্থা ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল, তা ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ভেঙে পড়ে। ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অহংকার এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাঁকে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানোর পথে ঠেলে দিয়েছে। এম্যানুয়েল অভিযোগ করেন, “ট্রাম্প এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার প্রস্তাবও বাধা দেন, কারণ তিনি মনে করতেন এবং তাতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেতে পারে।”
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের পেহেলগামে পাকিস্তানি মদতপুষ্ট জঙ্গী সংঘঠন লস্কর-ই-তৈবা পর্যটক দের উপর হামলা চালায়। সেই হামলার প্রতিবাদে ভারতীয় সেনা ‘অপারেশন সিঁন্দুর’ চালায়। যার জেরে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে লিপ্ত হয়। পরবর্তীকালে নিজেদের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির দিক দেখে আলোচনায় বসতে রাজি হয় ইসলামাবাদ। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কারনের শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে। কিন্তু সেই যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নয়া দিল্লী বারবার ট্রাম্প শিবিরের এই মন্তব্যকে খারিজ করে এসেছে। এছাড়াও ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরষ্কারের মনোনয়নকে সমর্থন করেনি ভারত। অন্যদিকে ইসলামাবাদ এবং ইজরায়িল বারবার ট্রাম্পের নোবেক মনোনয়নকে খোলাখুলি সমর্থন করে এসেছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূতের থেকে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ আসে আর্থিক দিক থেকে। এম্যানুয়েল দাবি করেন, পাকিস্তানের একটি ‘ক্রিপ্টো কাউন্সিল’ এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বেসরকারি ক্রিপ্টো সংস্থার যে বড় চুক্তি হয়েছিল, তার ৬০ শতাংশ শেয়ার ট্রাম্প পরিবার ও তাঁদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নামে। সেই অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমেই পাকিস্তান মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছিল, যা সরাসরি ভারতের স্বার্থের পরিপন্থী। এম্যানুয়েল বলেন, “এই গোপন আর্থিক প্রভাবই ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে, এবং ভারতকে কূটনৈতিকভাবে দূরে ঠেলে দেয়।” তাঁর বক্তব্যে আরও উঠে আসে যে, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের সামরিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময় ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে যে ইতিবাচক পরিকল্পনা চলছিল, তা মাঝপথে থামিয়ে দেয়। ওবামা আমলে যেখানে ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র হিসেবে দেখা হচ্ছিল, সেখানে ট্রাম্প আমলে সেই বিশ্বাস নড়বড়ে হয়ে পড়ে।
এই মন্তব্যকে ঘিরে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একাংশের মতে, এম্যানুয়েলের অভিযোগে যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে, কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের সময় বহু আন্তর্জাতিক মিত্র দেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি দেখা গেছে। তবে অপর অংশের দাবি, এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য, ট্রাম্পের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রচেষ্টা হতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এম্যানুয়েলের দাবি সত্যি হয়, তবে বিশ্ব কূটনীতিতে ভারতের অবস্থানের দিকটিও প্রকাশ করে।
