ওঙ্কার ডেস্ক: আগামী ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনটিকে শৌর্য দিবস হিসেবে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েও পিছু হঠল বিজেপি শাসিত রাজস্থান সরকার। ভজন লাল শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকার বিষয়টিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলেও অভিহিত করেছে।
গত ৩০ নভেম্বর, রাজ্য সরকারের তরফে পাঠানো একটি চিঠিতে সমস্ত সরকারি অফিস এবং বেসরকারি স্কুলগুলিকে ‘বাবরি ধ্বংস দিবস’কে শৌর্য দিবস হিসেবে পালন করার জন্য বক্তৃতা এবং প্রবন্ধ লেখার আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাবিত বিষয়গুলির মধ্যে ছিল ‘ভারতীয় মন্দির সংস্কৃতি এবং রাম আন্দোলনের গৌরব’, ‘সাহস ও ত্যাগের ঐতিহ্য’, ‘জাতি গঠনে যুবসমাজের ভূমিকা’ এবং ‘অযোধ্যায় রাম মন্দির’ এর মতো বিষয়। বিকানেরের ডিরেক্টর অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন সীতা রাম জাট একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলগুলিতে দেশাত্মবোধক গান, নাটক পরিবেশন এবং রাম মন্দির নির্মাণের বিস্তারিত প্রদর্শনী আয়োজন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিজ্ঞপ্তিতে দেশের ঐক্য ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য এবং অযোধ্যার রাম মন্দিরকে সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ এবং জাতীয় গর্ব পুনরুদ্ধারের প্রতীক হিসেবে স্মরণ করার জন্য শিক্ষার্থীদের শপথ গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। ভগবান রামের স্তোত্র ও ভজন, সেই সঙ্গে সূর্য নমস্কার এবং যোগব্যায়াম চর্চারও পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলওয়ার সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘আমরা এটাকে বাবরি ধ্বংস বলব না। এটি মূলত একটি রাম মন্দির ছিল যা ৫০০ বছর আগে বাবর ধ্বংস করেছিলেন। মন্দির পুনর্নির্মাণের জন্য একটি আন্দোলন হয়েছে; এর জন্য প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং অনেক করসেবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছে যে এটি রামের জন্মস্থান এবং এখানে একটি রাম মন্দির তৈরি করা উচিত। ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯২-এ করসেবকরা বিতর্কিত কাঠামো ভেঙে ফেলে। এটি ছিল সাহসিকতার কাজ এবং আমরা এটিকে শৌর্য দিবস হিসেবে উদযাপন করব।’ কিন্তু নাটকীয়ভাবে রাজস্থান সরকার এই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হঠেছে। শৌর্য দিবস সম্পর্কিত সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনগুলিকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছে। পাশাপাশি ডিরেক্টর অফ সেকেন্ডারি এডুকেশনের ৩০ নভেম্বরের নির্দেশকে ‘ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করেছে।
