ওঙ্কার ডেস্ক: রাজস্থানের জালাওয়ার জেলার পিপলোদ গ্রামে শুক্রবার সকালটা শুরু হয়েছিল প্রতিদিনের মতোই। প্রার্থনার সময় কচিকাঁচারা যখন মাথার উপর থেকে পাথরের গুঁড়ো পড়তে দেখে আতঙ্কে ছুটে যায় শিক্ষকদের কাছে, তখন তাঁদের কথাকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টে বকাঝকা করা হয়। শিশুদের নির্দেশ দেওয়া হয়, চুপচাপ গিয়ে বসতে। অভিযোগ, সেই সময় শিক্ষকেরা সকালের জলখাবারে ব্যস্ত ছিলেন। এরপর যা ঘটল, তা শুধু একটি গ্রামের নয়, গোটা রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতার নির্মম উদাহরণ হয়ে রইল।
মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ধসে পড়ে স্কুল ভবনের ছাদ ও একটি দেওয়াল। চাপা পড়ে মৃত্যু হয় সাত পড়ুয়ার। আহত হয়েছেন অন্তত ২৭ জন, যাঁদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর গোটা পিপলোদ গ্রাম শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়ে। সন্ধ্যায় মৃত শিশুদের শেষকৃত্যের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবার ও প্রতিবেশীরা। পুলিশের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই বিক্ষোভ রূপ নেয় হিংসাত্মক, পুলিশের গাড়িতে চলে ভাঙচুর।অভিযোগ ওঠে, দীর্ঘদিন ধরে স্কুল ভবনের জীর্ণ দশা সম্পর্কে প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্র জানায়, তারা প্রার্থনার সময়ই মাথার উপর থেকে পাথরের ছোট ছোট কুচি পড়তে দেখে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সতর্ক করেছিল। কিন্তু তাঁদের কেউ গুরুত্ব দেননি। শিশুটির কথায়, “স্যাররা তখন সকালের খাবার খাচ্ছিলেন। আমাদের ধমক দিয়ে বলেন ক্লাসে গিয়ে বসতে।” কিছুক্ষণের মধ্যেই সব ভেঙে পড়ে।
দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় নড়ে বসে প্রশাসন। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিক্ষা দফতরের পাঁচ জন কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি গাফিলতির অভিযোগ আনা হয়েছে। জেলা শাসক অজয় সিং রাঠৌর বলেন, “আমরা আগেই নির্দেশ দিয়েছিলাম, কোনও ভগ্নপ্রায় স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের বসানো যাবে না। কিছু স্কুল মেরামতও করা হয়েছিল। এখানে শিক্ষকদের তরফে গাফিলতি ছিল। তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, রিপোর্ট জমা পড়লে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র এক মাস আগে ওই স্কুলে কিছুটা প্লাস্টার ও সিমেন্টের কাজ হয়েছিল। কিন্তু মূল কাঠামোর দুর্বলতা থেকে গিয়েছিল। বারবার প্রশাসনকে স্কুলের ভগ্নপ্রায় অবস্থা জানানো হলেও কার্যত কোনও রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের।অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রশাসনিক অবহেলার জন্যই এদিন এমন মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে। শিশুদের আগাম সতর্কবার্তা যদি গুরুত্ব পেত, হয়তো প্রাণ হারাতে হতো না এই সাত ছোট্ট শিশুকে।
