ওঙ্কার ডেস্ক: ভাঙড়ে অঞ্চল সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা রাজ্জাক খাঁ খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করল উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন পানাপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য তথা তৃণমূল নেতা আজহারউদ্দিন মোল্লা। বাকি দু’জন হলেন জাহান আলি খান ও রাজু মোল্লা। এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো, যার মধ্যে দু’জনই শাসক দলের নেতা ও কর্মী। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত আজহারউদ্দিন মোল্লা এক সময় আইএসএফ করলেও, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শওকত মোল্লার হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। আর সেই নেতাই এখন রাজ্জাক খাঁ খুনে অভিযুক্ত। তদন্তকারীদের অনুমান, এলাকা দখলের লড়াইকে কেন্দ্র করেই এই রক্তাক্ত ষড়যন্ত্র। জানা গিয়েছে, মোফাজ্জল মোল্লাকে জেরা করে এবং ফোনের টাওয়ার লোকেশন ধরে আজহারউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয় পোলেরহাটা থানা এলাকা থেকে। রবিবার বারুইপুর মহকুমা আদালত মোফাজ্জলকে ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তার জবানবন্দি থেকে উঠে আসে আরও দুই অভিযুক্তের নাম। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, রাজু মোল্লা পেশায় ভাড়াটে খুনি এবং জাহান আলি খান এলাকার ‘টিপার’ হিসেবে পরিচিত। মূলত মোফাজ্জলের মাধ্যমেই এদের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরি হয়েছিল। তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও প্রভাবশালী চক্র জড়িত থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে বিজয়গঞ্জ বাজারের কাছে তৃণমূলের দলীয় কর্মসূচি সেরে বাড়ি ফিরছিলেন রাজ্জাক খাঁ। সেসময় দুষ্কৃতীরা আছমকায় তাঁর উপর হামলা চালায়। পাঁচ রাউন্ড গুলি করার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এলাকায় তৎক্ষণাৎ চাঞ্চল্য ছড়ায়। হত্যার পর থেকেই দফায় দফায় শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর।
ভাঙড়ের আইএসএফ এর বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এই হত্যাকে তৃণমূলের অন্তর্কলহের ফলাফল বলে দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই এই খুনের কারণ”। ইতিমধ্যেই ১৬ জুলাই ভাঙড় ব্রিজ থেকে ‘ধিক্কার মিছিল’-এর ডাক দিয়েছেন নাওশাদ। পাল্টা ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ও পর্যবেক্ষক শওকত মোল্লার দাবি, ‘‘এই হত্যার পেছনে রয়েছে আইএসএফের ষড়যন্ত্র।’’
পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে একাধিক মোবাইল ফুটেজ, কল রেকর্ড ও সন্দেহভাজনের গতিবিধি খতিয়ে দেখছে। জোরদার জেরা চলছে ধৃতদের। প্রশাসন সূত্রে ইঙ্গিত, আগামী দিনে তদন্তে উঠে আসতে পারে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। এলাকায় নতুন করে অশান্তি এড়াতে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল।
