ওঙ্কার ডেস্ক: ধর্ষণের ঘটনায় নির্যাতিতা এবং তাঁর সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষা করানো রুটিন বিষয় হতে পারে না বলে জানালো এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এ ক্ষেত্রে নির্যাতিতার সন্তানের পিতৃত্ব জানা জরুরি নয় বলে পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে এলাহাবাদ হাই কোর্ট। ধর্ষণের ঘটনায় নিম্ন আদালত যে রায় দিয়েছিল, তা বহাল রাখল হাইকোর্ট।
এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় তদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিটও জমা দিয়েছে পুলিশ। চার্জ গঠনের পর মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে নিম্ন আদালতে। কিন্তু অভিযুক্ত নিম্ন আদালতে আবেদন করেন, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য। তাঁর যুক্তি, যে নির্দিষ্ট সময়ের পরে শিশু জন্মানোর কথা তার আগেই জন্মেছে নির্যাতিতার সন্তান। অভিযুক্ত দাবি করেন, তিনি নির্যাতিতার সন্তানের পিতা নন। সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার দাবি করেন তিনি।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে তার ফলে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে নির্যাতিতার ব্যক্তিগত জীবনে। বিচারপতি রাজীব মিশ্র বলেন, ‘ধর্ষণের মামলার বিচারে সন্তানের পিতৃত্ব জানা দরকারি নয়। ডিএনএ পরীক্ষা নির্যাতিতা এবং তাঁর শিশুর জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। কেবলমাত্র অনিবার্য পরিস্থিতিতেই আদালত ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিতে পারে।’ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ের কথা উল্লেখ করে আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘ধর্ষণের ঘটনায় নির্যাতিতা এবং তাঁর সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষা করার জন্য আবেদন করা হলে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে এবং সতর্ক হয়ে বিবেচনা করা দরকার।’
