দীর্ঘ আট বছরের দূরত্ব ভুলে ফের সক্রিয় রাজনীতে শোভন চট্টোপাধ্যায়। প্রথমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা। এরপর নিউটাউন উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে শোভন চট্টোপাধ্যায়। শোভনের এই প্রত্যাবর্তনে ফের উঠে আসে স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের কথা। পারিবারিক বিবাদ থাকলেও রত্নাও তৃণমূলেরই নেত্রী,বিধায়ক। শোভন চট্টোপাধ্যায় তৃণমূল ছেড়ে যাওয়ার পর তাঁরই বিধানসভা কেন্দ্র বেহালা পূর্ব থেকেই বিধায়ক হন রত্না চট্টোপাধ্যায়। শোভনের ঘরে ফেরাকে কি ভাবে নিচ্ছেন স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায় ?
সাক্ষাৎকার : বিশ্বজিৎ হালদার
প্রশ্ন : নিউটাউন উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে শোভন চট্টোপাধ্যায়। তাঁর এই ঘরে ফেরাকে কি ভাবে নিচ্ছেন ?
রত্না : ভালো লাগছে,কাজের লোক কাজে ফিরেছেন। আট বছর ঘরে বসেছিলেন। নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরেছিলেন। আট বছর নষ্ট করেছেন। ওনাকে কেউ দল থেকে তাড়িয়ে দেয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেছেন তাই দায়িত্ব দিয়েছেন।
প্রশ্ন : সরকারি পদে ফিরলেন, তৃণমূলে ফিরছেন কবে ?
উত্তর : তৃণমূলে ফেরানোর আমি কেউ না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যদি মনে করেন দলে ফেরানো উচিত, ফেরাবেন। ওনাকে কেউ দল ছাড়তে বলেনি। নিজেই দল ছেড়ে গিয়েছিলেন। তবে এখন নিজের ভুল বুঝতে পারছেন। আমি চাই শোভন আবার সক্রিয় রাজনীতিতে আসুন। কারণ শোভন রাজনীতি ছাড়া কিছুই বোঝেন না। ওর জন্ম হয়েছে রাজনীতি করার জন্য। কলকাতার মেয়র ছিলেন, তিন তিনটে দফতরের মন্ত্রী ছিলেন। আর অনেক দূর যেতে পারতেন। স্ত্রী হিসাবে আমার খুব খারাপ লেগেছিল তৃণমূল ছাড়ার জন্য।
প্রশ্ন : কলকাতার মেয়র হচ্ছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়, জল্পনা বেশ, কি মনে করছেন ?
উত্তর : দেখুন এই ধরনের কোন জল্পনা আমি শুনিনি। তাই কোন উত্তর দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। তা ছাড়া,বর্তমানে ফিরহাদ হাকিম কলকাতার মহানাগরিক হিসাবে ভালো কাজ করছেন।
প্রশ্ন কলকাতায় জল জমে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে,মেয়রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে……
উত্তর : কলকাতায় সেদিন যে পরিমান বৃষ্টি হয়েছিল। এক ঘন্টার মধ্যে জল নামা অসম্ভব ছিল। ফিরহাদ হাকিম কেন কোন মেয়র এক ঘন্টার মধ্যে জল নামাতে পারতেন না। সেদিক থেকে ফিরহাদ হাকিম ভালো চেষ্টা করেছেন। রাতের মধ্যেই জল নেমে গিয়েছিল।
প্রশ্ন : সুব্রত ,বিকাশ,শোভন, ফিরহাদ, মেয়র হিসাবে কে এগিয়ে ?
উত্তর : মেয়র হিসাবে সব থেকে ভালো কাজ করেছেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য পার্ট টাইম মেয়র ছিলেন, কলকাতা পুরসভার থেকে হাইকোর্টে বেশি সময় দিতেন। আর শোভন চট্টোপাধ্যায় ও ভালো কাজ করেছেন। ফিরহাদ হাকিম মেয়র হিসাবে ও ভালো কাজ করছেন।
প্রশ্ন : পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আসনে প্রার্থী হচ্ছেন শোভন চট্টোপাধ্যায় ?
উত্তর : আমি তো প্রার্থী ঠিক করার কেউ না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যদি মনে করেন বেহালা পশ্চিমে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করবেন। করতেই পারে।
প্রশ্ন : আট বছর রাজনীতি থেকে বাইরে জিততে পারবেন ?
উত্তর : আমি তো কোন দিন বেহালতে সক্রিয় রাজনীতি করিনি। তার পরেও কাউন্সিল ভোটে জিতেছি। বিধায়কও হয়েছি। জোড়াফুলের চিহ্ন ও ‘মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ছবি থাকলে শোভন কেন যে কেউ জয়ী হবে। তবে শোভন সমাজকে যে বার্তা দিয়েছে সেটা নতুন প্রজন্মের কাছে খুব খারাপ।
প্রশ্ন : শোভনের হয়ে প্রচারে যাবেন ?
উত্তর : দল নির্দেশ দিলে প্রচারে যাব । কারণ আমি দলের অনুগত সৈনিক।
প্রশ্ন : কালিঘাটে বৈঠকে দেখা হলে রত্না চট্টোপাধ্যায় শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে
কথা বলবেন ?
উত্তর : এক দম না, এত কিছুর পর কথা বলার প্রশ্নই ওঠে না। দীর্ঘ আট বছর আদালতে অনেকবার দেখা হয়েছে কথা বলিনি।
প্রশ্ন : সুব্রত, বিকাশ, শোভন, ফিরহাদ দশ নম্বরের মধ্য কাকে কত দেবেন?
উত্তর : সুব্রত মুখোপাধ্যায় ১০/১০ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ১০/০, আর শোভন চট্টোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিমকে কোন নম্বর দেব না।
