জেলে যেতেও প্রস্তুত, তবু দেশে ফিরবেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরতে বদ্ধপরিকর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে দেওয়া এক টেলিফোনিক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।
হাসিনাকে গত ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। সেই রায়কে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘প্রহসন’ বলে অভিযোগ করেছেন হাসিনা। এনডিটিভিকে হাসিনা বলেন, ‘‘২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরতে আমি বদ্ধপরিকর। আমি মনে করি, দেশে ফেরার অধিকার আমার রয়েছে। সেখানকার কোনও আইন আমায় বাধা দিতে পারে না।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আজ ঘোষণা করছি, আমি নিজের দেশে, দেশের মানুষের কাছে ফিরতে চাই। আমি ফিরব কি না, তা নিয়ে আর প্রশ্নই নেই। কী ভাবে ফিরলে দেশের মানুষের স্বার্থরক্ষা হবে, সেটাই প্রশ্ন।’’ নিজের বিরুদ্ধে ওঠা মামলা নিয়ে হাসিনার বক্তব্য, ‘‘যে কোনও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে আমি প্রস্তুত। এমনকি, জেলে যেতেও প্রস্তুত। যদি বাংলাদেশের মানুষের সেবা করার জন্য সেই দাম দিতে হয়, আমি তাতেও রাজি।’’ তিনি দাবি করেন, দেশ ছাড়ার পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ‘অসাংবিধানিক’।
সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানান, বাংলাদেশে ভোটে লড়ার অধিকার হারালেও আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনের কাজ করছেন তিনি। তাঁর দাবি, স্বাধীনতা আনা দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পুনর্জাগরণ হবেই এবং তার কেন্দ্রে থাকবেন তিনি। একই সঙ্গে বিচার চলাকালীন ‘আইনি রক্ষাকবচ’-এর দাবিও তুলেছেন তিনি। জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে হাসিনার অভিযোগ, তাঁর শাসনকালে নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পেত, এখন কট্টরপন্থীদের হুমকি ‘উদ্বেগজনক’। তিনি বলেন, কট্টরপন্থী নেটওয়ার্ক এক দেশে আটকে থাকে না, এটি গোটা দক্ষিণ এশিয়ার সমস্যা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে দিল্লিতেই রয়েছেন ৭৮ বছর বয়সী হাসিনা। কী ভাবে তিনি দেশে ফিরবেন, বাংলাদেশ বা ভারত সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে কোনও যোগাযোগ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে অবশ্য মুখ খোলেননি তিনি।