অপরূপা কাঞ্জিলাল : ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট সকালে আরজি কর হাসপাতালের এমন এক ঘটনা সামনে আসে যে ঘটনায় বুক কেঁপে উঠেছিল মানুষের। সেদিন হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের নৃশংসভাবে ক্ষতবিক্ষত দেহ পাওয়া গিয়েছিল। ধর্ষণ এবং খুনের অভিযোগে উত্তাল হয়ে ওঠে মহানগরী। দেশ থেকে বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই মর্মান্তিক ঘটনার খবর। প্রতিবাদের ঝড় দেখা যায়। ময়নাতদন্তে রিপোর্টেও নৃশংসতার প্রমাণ মেলে।
নির্যাতিতার বাবা মায়ের ক্ষোভ, শুধু মেলেনি ন্যায়বিচার। তারপর কেটে গেল প্রায় দেড় বছর। এত দীর্ঘ সময় গেলেও তার তদন্ত প্রক্রিয়া এবং বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। এরই মধ্যে এবার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চে চলে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি। তাতে আর জি কর মামলা কলকাতা হাই কোর্টে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে মামলার কাগজপত্রও যাতে হাই কোর্টে পাঠানো হয় তাও ওই নির্দেশে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই মামলা গ্রহণ করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের তরফে। একাধিক বার সেই নিয়ে শুনানিও হয় সেখানে। কিন্তু এবার সেই মামলা ফেরত পাঠালো সুপ্রিম কোর্ট। জানা যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য অনুযায়ী কলকাতা হাইকোর্টে মামলাগুলি শোনার জন্য একটি ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করা হবে। সেই ডিভিশন বেঞ্চই আর জি করের মামলাগুলি শুনবে।
এর আগে, শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্ট তদন্তের ক্ষেত্রে যে নির্দেশ দিয়েছিল সেগুলি সহ রাজ্যের এবং দেশের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নিরাপত্তাও প্রাধান্য পায় মামলায়। নিরাপত্তার দিকগুলি বিবেচনা করে হাসপাতালের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশিকাও দেওয়া হয়। হাসপাতালগুলির রেস্ট রুম, টয়লেটের সুবিধা অসুবিধা, হাসপাতাল চত্বরের নিরাপত্তা, সিসিটিভি নজরদারি নিয়ে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলিও মানা হয়েছে কি না, কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সেগুলিও এখন কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চই খতিয়ে দেখবে।
বলা বাহুল্য, আরজি কর ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে বারবারই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে অভয়ার বাবা-মা। তাদের অভিযোগ ছিল, CBI তাদের অন্ধকারে রাখছে। তদন্ত সংক্রান্ত প্রকৃত তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। দৈনিক কার্যকলাপ নিয়ে অবগত করা হচ্ছে না একেবারেই। এবার এই বিষয়েও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অভয়ার পরিবারের কাছে সিবিআইকে তদন্তের স্টেটাস রিপোর্ট এর প্রতিলিপি দিতে হবে। অভয়ার এর পরিবার এবং তাদের তরফের আইনজীবী ওই রিপোর্ট দেখে কোন খামতি থাকলে তাঁদের মতামত আদালতের কাছে তুলে ধরতে পারবেন। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে সমস্ত নথিপত্র হাইকোর্টের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়। এখন হাইকোর্টের বিচারপতি কোন বেঞ্চে এই তদন্তের দায়িত্ব দেন সেটাই দেখার।
