নিজস্ব প্রতিনিধি, ওঙ্কার বাংলা: গত বছর আগস্ট মাসে আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য। সেই ঘটনার এক বছর এখনও হয়নি। তার মধ্যেই কলকাতার ল কলেজে ছাত্রীকে গণধর্ষণের
অভিযোগ উঠল। আর এই ঘটনায় সরাসরি যোগ পাওয়া গিয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের। কারণ যে তিন অভিযুক্ত ধরা পড়েছে তারা টিএমসিপি-র সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ।
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে যদিও বলা হয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে এখন কোনও পদে সে নেই বলে জোড়াফুল শিবিরের তরফে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যারা এই ঘটনায় দোষী তারা যেন কঠিন শাস্তি পায় সেই দাবি তুলেছে রাজ্যের শাসকদল। শুক্রবার রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, ‘সমবেদনা জানানোর ভাষা নেই। আইন ছাত্রীর উপর যারা বর্বর ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের জেলে পাঠানো হয়েছে। নির্যাতিতার পাশে আছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘অপরাধ হবে আর তা নিয়ে রাজনীতি হবে, এটা চলতে পারে না। যারা রাজনীতিতে দেউলিয়া তারা বিভিন্ন ব্যাখ্যা করছে। সোশাল মিডিয়ায় কাটাছেঁড়া চলছে। তাঁদের কাছে আমার একটাই বক্তব্য, অপরাজিতা বিল বিধানসভায় ১০ মাস আগে পাশ হয়ে গিয়েছে। মানুষ দ্বারা নির্বাচিত বিধায়করা তাতে সায় দিয়েছেন। ওই বিল কে আটকে রেখেছে? রাজনীতি করার আগে উত্তর দিক বিজেপি। রাস্তায় বাঁদরামো করবেন না। তার চেয়ে বিল আগে পাশ করানোর চেষ্টা করুন। মহিলার শরীর রাজনৈতিক যুদ্ধের জন্য নয়। তা সম্মান করার।’
উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন কলকাতার কসবার ল কলেজে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তরুণী। ওই দিন কলেজে ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে নৃশংস অত্যাচারের শিকার হন তরুণী। কী ভাবে পুরনো পরিচিতরা তাঁকে ধর্ষণ করলেন সে বিষয়ে পুলিশকে সবিস্তারে জানিয়েছেন নির্যাতিতা। নিজের বয়ানে নির্যাতিতা তরুণী জানিয়েছেন, গত ২৫ মে পরীক্ষার ফর্ম পূরণের জন্য তিনি কলেজে গিয়েছিলেন। দুপুরে ফর্ম পূরণের কাজ সারা হয়ে যায়। এর পর তিনি ইউনিয়ন রুমে যান। এর পর তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনের এক নেতা তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু নির্যাতিতা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। অভিযোগ এর পর তাঁকে গার্ডস রুমে নিয়ে গিয়ে জোর করে ধর্ষণ করে ওই অভিযুক্ত। যখন তাঁর উপর অত্যাচার করা হয় তখন প্রাণপণে বাধা দিয়েছিলেন তরুণী। কিন্তু পেরে ওঠেননি তিনি। অভিযোগ, যখন নির্যাতিতার উপর অত্যাচার চালানো হচ্ছিল সেই সময় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে অভিযুক্তের দুই বন্ধু।
