গোপাল শীল, পাথরপ্রতিমা: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোজ নদী পারাপার। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের কাঞ্চনকৃক নদীর জেটিঘাটগুলির বর্তমান ছবিটা ঠিক এমনই। নিরাপদে পারাপারের জন্য যে জেটি, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রামগঙ্গা থেকে পাথরপ্রতিমা যাওয়ার পথে নদীর দু’পারে চারটি কংক্রিটের জেটিঘাট রয়েছে। তার মধ্যে তিনটির অবস্থা অত্যন্ত বিপজ্জনক। পাথরপ্রতিমার দিকের জেটির মাঝের প্লেট ভেঙে বড় বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে, রামগঙ্গার দু’টি ঘাটের কংক্রিটের চাঙড় খসে পড়ছে। রেলিং নেই, কোথাও কোথাও পা ফেলার জায়গাটুকুও নেই।
এই পথেই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। স্কুল পড়ুয়া, রোগী, বাজার করতে যাওয়া মানুষ — সবার ভরসা এই ঘাট। ভিড়ের সময় নৌকায় ওঠানামা করতে গিয়ে পা পিছলে নদীতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে। বর্ষায় জলের স্রোত বাড়লে এই ঝুঁকি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর আলোর কোনও ব্যবস্থা নেই, ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা আরও বেশি।
নিত্যযাত্রীদের প্রশ্ন, দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে কি? তাঁদের দাবি, অবিলম্বে ঘাটগুলি মেরামত নয়, নতুন করে শক্তপোক্ত ভাবে তৈরি করতে হবে এবং পারাপারের সময় নিরাপত্তা কর্মী ও আলোর ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে সুন্দরবন বিষয়ক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা এবং পাথরপ্রতিমা ব্লকের বিডিও জানিয়েছেন, ঘাটগুলির পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুত সংস্কার এবং প্রয়োজনে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে আশ্বাসের পরেও আতঙ্ক কাটছে না। স্থানীয়দের একটাই প্রশ্ন — প্রতিশ্রুতি এবার বাস্তবে কাজে পরিণত হবে তো, নাকি বড় দুর্ঘটনার অপেক্ষাতেই থাকতে হবে?