অরূপ পোদ্দার, শিলিগুড়ি: পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষের শুভ সূচনা হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এ বছরও মহালয়ার ভোরে তর্পণের জন্য শিলিগুড়ির লালমোহন মৌলিক নিরঞ্জন ঘাটে ভীড় জমান কয়েক-শো মানুষ। জনসাধারণের বিশ্বাস, দেবীপক্ষের প্রাক্কালে, এ দিন পূর্বপুরুষদের আত্মা স্ব-স্বলোকে ফিরে যান। এই পুণ্যদিনে সন্তানাদির হাতে জল পেয়ে তৃপ্ত হতে তাঁদের কাছাকাছি অবস্থান করে প্রিয়জনেদের আত্মা। তাই তাঁদের তৃপ্তিদান করতে পারলে জীবিত স্বজনের বড় পুণ্যলাভ হয়।
প্রতিবছর শিলিগুড়ি-সহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ এদিন সকালে তর্পণ দেখতে ভিড় জমান এই ঘাটে। এমতাবস্থায় আজ ভোরে লালমোহন মৌলিক নিরঞ্জন ঘাটে পরিস্থিতি সরোজনীনে খতিয়ে দেখতে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ ঘাটের নিরাপত্তা ও অন্য়ান্য় দিক খতিয়ে দেখেন তিনি।
এদিন মন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেন, “মহালয়া সকলের এই বিষয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই। এটা শুধু অনুভব করার। দুর্গা পুজোকে সামনে রেখে মহালয়া থেকে তর্পন-সহ দেবিপক্ষে সমগ্র শিলিগুড়ি মানুষ একত্রিত হয়। ছোটবেলায় সাইকেল নিয়ে বের হতাম। বড় হওয়ার সাথে সাথে অনেক কিছু বদলেছে। চারিদিকে মহালয়ার গান বাজছে। এটা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “আজ ইডেনে একটি বড় অনুষ্ঠান হবে, আগামীকাল এবং আগামী পরশু শিলিগুড়ি কালাখালীতে মাঠে বিশেষ অনুষ্ঠান ও আতশবাজি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তথ্যসংস্কৃতি দপ্তরের পক্ষ থেকে। সব মিলে রাজ্যের মানুষের পুজো ভালো কাটুক এই কামনা করছি। পুজোতে বেশ কিছু ভ্রমণ ইত্যাদি ব্যবস্থা করা হয়েছে পর্যটন স্থল গুলোকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে। চার সাড়ে চার মাসে পর্যটন স্থল গুলিকে যতটা সম্ভব সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এবার পুজোতে আমি অনুরোধ করব আমাদের পশ্চিমবঙ্গে এরকম অনেক জায়গা আছে যেগুলোতে আমরা সাধারণভাবে যায় না। সেই সমস্ত জায়গাগুলো ঘুরে দেখবার জন্য আবেদন জানাবো। কেন্দ্রীয় সরকারের একটি প্রকল্প রয়েছে ‘স্বদেশ দর্শন’, আমার মনে হয় আমার নিজের রাজ্যকেও আমাদের নিজের এক্সপ্লোর করা উচিত।”