ওঙ্কার ডেস্ক: রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারনে ভারতের উপর ৫০% শুল্ক চাপিয়েছিল ওয়াশিংটন। এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেবে ভারত। এমনটাই নাকি বিবৃতি দিয়েছেন নয়া দিল্লী। পাশাপাশি ভারতের বানিজ্য সচীব রাজেশ আগারওয়ালের কথাতেও মিলেছে আমেরিকা থেকে বেশি পরিমানে তেল কেনার ইঙ্গিত। সব মিলিয়ে ঠিক কোন দিকে এগাচ্ছে নয়া দিল্লী-মস্কোর বানিজ্যিক সম্পর্ক।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার দাবি করেছিলেন, ভারত নাকি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেবে। এই মর্মে এক সরকারি বিবৃতিও জমা দিয়েছেন নয়া দিল্লী। এতে বেশ খোশ মেজাজে আছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ের ট্রাম্প জানান, “আমার বন্ধু মোদী আশস্ত করেছেন তাঁর দেশ রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেবে”। তিনি এও বলেন চিন যেন ভারতের পথ অনুসরণ করে। তাহলেই তিন বছর যাবৎ চলা রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ থামানো সম্ভপর হবে। ট্রাম্পের এহেন মন্তব্যে বেশ শোরগোল পরে গেছে বিশ্ব রাজনীতিতে। দিল্লী অবশ্য এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করে নি। কিন্তু বুধবারই ভারতের বানিজ্য সচীব রাজেশ আগারওয়াল জানিয়েছেন, আমেরিকা থেকে তেল কেনার পরিমান বারাবে ভারত। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে তাহলে কি এবার সত্যিই রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেবে ভারত। ফলস্বরুপ কোনদিকে যাবে নয়াদিল্লি মস্কোর বন্ধুত্বের সম্পর্ক সে নিয়েও সংশয় রয়ে যাচ্ছে।
রাশিয়া থেকে তেল কেনার অপরাধে ভারতের উপর শুল্কবাণ চাপিয়েছিল ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক শুল্ক ২৫% এবং জরিমানা বাবাদ আরও ২৫%, মোট ৫০% শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল ভারতীয় পন্যের উপর। আমেরিকার মতে ভারতকে তেল বিক্রি করা টাকায় ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের খরচ করছে রাশিয়া। তাই রাশিয়ার অর্থনৈতিক কাঠামোকে আঘাত করতে ভারতকে রাশিয়া্র তেল কেনা থেকে বিরত থাকতে বলেছিলেন ট্রাম্প। বারংবার নিষেধ না মানার পরই ভারতীয় রফতানীজাত পন্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। কিন্তু তাতেও রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ বা কমায়নি ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের হঠাৎ এহেন মন্তব্যের নেপথ্যের আসল কারন কি তার দিকে নজর।
প্রসঙ্গত, ২০২২ –এর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে যুদ্ধে জড়িয়েছিল রাশিয়া ইউক্রেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরই বিশ্বের নানা দেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল রাশিয়ার উপর। আন্তর্জাতিক বাজার রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেয় বহু দেশ। ব্যবসা বজায় রাখতে তেলের দাম কমিয়ে দেয় মস্কো। সেই সুযোগে কম দামে রাশিয়া থেকে তেল কেনা শুরু করে ভারত। এর আগে মধ্য প্রাচ্য থেকে তেল কিনত ভারত। পাশাপাশি আমেরিকা থেকেও কিছু পরিমান তেল কিনত ভারত। একাধিক বার মার্কিন হুঁশিয়ারির সত্ত্বেও মস্কো থেকে তেল কেনা অব্যহত রেখেছে ভারত। কোনো চাপের মুখে পুরানো বন্ধুর হাত ছাড়েনি দিল্লী। কিন্তু ট্রাম্পের দাবি নিয়ে আবার বিতর্কের মুখে দুই দেশের সম্পর্ক।
