ওঙ্কার ডেস্ক: সম্প্রতি রাশিয়া থেকে তেল কেন কিছুটা কমিয়ে দিয়েছেন ভারতের তেল আমদানিকারক সংস্থাগুলি। এর প্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে দিল্লী নাকি যুক্তরাষ্ট্রের চাপেই এহেন সিধান্ত নিয়েছে। নয়া দিল্লী অবশ্য এই মন্তব্যের বিরোধিতা করে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কোন পশ্চিমা দেশের চাপে নয় নিজের দেশের জাতীয় স্বার্থেই সিধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারালিন লেভেট বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সম্বন্ধে বলেন, “রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করে যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন”। তিনি জানান রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধ না থামায় ক্ষিপ্ত দপ্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বারবার বিশ্বের অনান্য দেশ গুলির কাছে রাশিয়া থেকে তেল কেন বন্ধ করার অনুরোধ জানান। তাঁর কথায়, “আমেরিকার চাপেই চিনও রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছে। ভারতও এখন রাশিয়া থেকে তেল কেনা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুরোধেই”। পাশাপাশি বাকি ইউরোপীয় দেশ গুলিকেও রাশিয়ার তেল কেনা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন লেভেট।
এই বক্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ গত সপ্তাহেই ট্রাম্প নিজে বলেছিলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে চলতি বছরের শেষের মধ্যেই ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনবে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘‘এটি একটি প্রক্রিয়া। হঠাৎ বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে বছরের শেষে ভারত প্রায় ৪০ শতাংশ থেকে শূন্যের দিকে যাবে।’’ তবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রক এই বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছে। মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই তেল আমদানির সিদ্ধান্ত সর্বদা দেশের অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নেওয়া হয়। তাঁর কথায়, ‘‘ভারত নিজের স্বার্থের ভিত্তিতেই জ্বালানি নীতি নির্ধারণ করে, বাইরের কোনো চাপে নয়।’’
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই দাবি কূটনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে। বর্তমানে মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার ওপর তেল বাণিজ্য সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে। ফলে রুশ তেল ক্রেতাদের মধ্যে ভারত অন্যতম বড় অংশীদার হওয়ায়, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়তেই পারে। রাশিয়া থেকে কম দামে তেল কিনে ভারত তা পরিশোধন করে অন্যান্য দেশে রপ্তানি করছে, যা মার্কিন বাজারের দৃষ্টিতে সংবেদনশীল বিষয়।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এই অবস্থার প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। যদি ভারত সত্যিই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমায়, তাহলে এশিয়ার বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। একই সঙ্গে ভারতের জন্যও এটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে, কারণ দেশে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা ও মূল্যনিয়ন্ত্রণ দুটি দিকই একসঙ্গে সামলাতে হবে।
