ওঙ্কার ডেস্ক : মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট ফের রুশ তেল আমদানির প্রসঙ্গ তুললেন ভারতকে কেন্দ্র করে। তাঁর বক্তব্য, ভারত বিশ্বের যে কোনও দেশ থেকে তেল কিনতে পারে, তবে রাশিয়ার তেল কেনার ফলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
রাইট দাবি করেন, সস্তার কারণেই ভারত রুশ তেলের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু এর ফলে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন পরোক্ষভাবে শক্তি পাচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে চায় না। বরং পারমাণবিক শক্তি, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্রিস রাইট বলেন, “আমি ভারতের বিরাট ভক্ত, আমরা চাই দুই দেশের মধ্যে এনার্জি ট্রেড ও সহযোগিতা আরও বাড়ুক।” মার্কিন এই অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ তেলের বাজারে ধাক্কা লেগেছে, আর সেই জায়গাতেই ভারত তুলনামূলক কম দামে তেল কিনে অর্থনীতিকে সচল রাখার পথ বেছে নিয়েছে।
ভারতের নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে এসছে বরাবর। নয়া দিল্লির মতে দেশের জ্বালানি চাহিদা ও বাজারের ভারসাম্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, বাইরের চাপ নয়। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার বার্তাটি সরাসরি রাজনৈতিক চাপ নয়, বরং কূটনৈতিক ইঙ্গিত যে তারা চায় ভারত পশ্চিমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলুক। ভবিষ্যতে ভারত কীভাবে একদিকে সস্তা রুশ তেলের ওপর নির্ভরশীলতা বজায় রেখে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিয়ে যায় সেদিকে নজর বিশেষজ্ঞ মহলের।
