ওঙ্কার ডেস্ক: রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বৈষম্য দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে ভারত রাশিয়া থেকে প্রায় ৬৬ হাজার কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যার বেশিরভাগই খনিজ তেল। বিপরীতে, রুশ বাজারে ভারতীয় রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪১০ কোটি ডলার। অর্থাৎ বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে কয়েক লক্ষ কোটি টাকায়।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতীয় রফতানি বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির কারণে ভারতের যে ক্ষতি হচ্ছে, রাশিয়া সেটি পূরণ করতে চায়। কৃষি পণ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য শিল্পজাত দ্রব্য আমদানি বাড়ানোর বিষয়ে মস্কো আগ্রহী বলেই জানিয়েছেন তিনি।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আশ্বাস কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না। রাশিয়ার বাজারে ভারতীয় কৃষি ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের প্রবেশে নানা বাধা রয়েছে। মান নিয়ন্ত্রণ, গুণগত নিশ্চয়তা এবং শুল্কনীতি প্রতিটি ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক নিয়মাবলীর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে ভারতীয় শিল্পকে। পাশাপাশি, রাশিয়ার বাজারে ইতিমধ্যেই ইউরোপ ও চীনের বড় দখল রয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতার সঙ্গে লড়াই করেই ভারতের পক্ষে জায়গা করে নিতে হবে।
তবুও বিশেষত কৃষি উৎপাদন, ঔষধশিল্প, প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি রফতানির ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতি রাশিয়ার নির্ভরতা বাড়াতে পারে। যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া নতুন বাণিজ্যসঙ্গী খুঁজছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ভারতীয় রফতানিকারকরা বড়সড় বাজার পেতে পারেন।
বর্তমানে রাশিয়া ভারতের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাশিয়ার মোট বাণিজ্যের প্রায় ১৬.৮ শতাংশ ভারতের সঙ্গে। তবে আমদানি-রফতানির অমিলই চিন্তার কারণ। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত যদি রুশ বাজারে কৌশলগতভাবে বিনিয়োগ বাড়ায়, গুণমান ও সরবরাহ চেইনে উন্নতি ঘটায়, তবে এই বাণিজ্য ঘাটতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
