ওঙ্কার ডেস্ক : রাশিয়া বিভিন্ন প্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থাগুলির কর্মীঘাটতি মেটাতে ভারতীয় কর্মীদের নিয়োগের দিকে ঝুঁকছে। রাশিয়ার ভারী শিল্পাঞ্চলের মধ্যে অন্যতম সভেরডলোভস্ক ইতিমধ্যে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় বিশেষজ্ঞের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভারত থেকে অভিবাসী কর্মীরা ইতিমধ্যেই ২০২৪ সাল থেকে এখানে আসা শুরু করেছে। এই লক্ষ্যে রাশিয়া তার দেশের উৎপাদন চাহিদা মেটাতে বিদেশী শ্রম কোটা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্সের রাশিয়ান কোম্পানিগুলি ভারতীয় নাগরিকদের নিয়োগের ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে। তাস-এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাশিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় কুমার জানিয়েছেন, “বৃহত্তর স্তরে, রাশিয়ায় জনশক্তির চাহিদা বাড়ছে এবং ভারতে রয়েছে দক্ষ জনশক্তি। তাই বর্তমানে, রাশিয়ার নিয়মকানুন, আইন এবং কোটার কাঠামোর মধ্যে কোম্পানিগুলি ভারতীয়দের নিয়োগ করা শুরু করেছে।” তিনি উল্লেখ করেন যে “যাঁরা এসেছেন তাঁদের বেশিরভাগই নির্মাণ এবং টেক্সটাইল সেক্টারে” তবে তিনি আরও যোগ করেন যে যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পেও চাহিদা বাড়ছে।
এর ফলে কনস্যুলার পরিষেবার উপর চাপ বাড়ছে। ভারতীয় কর্মীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা কনস্যুলারের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিনয় কুমার বলেছেন, “মানুষের আসা যাওয়া নিয়ে তাদের পাসপোর্টের মেয়াদ বৃদ্ধি, সন্তান জন্মদান, পাসপোর্ট হারানো বিষয়গুলি সামলাতে কনস্যুলার পরিষেবার প্রয়োজন হয়।” ভারতীয় দূতাবাস এবং কনস্যুলেটগুলি অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। যার মধ্যে আগত কর্মীদের সহায়তা করার জন্য ইয়েকাটেরিনবার্গে একটি নতুন কনস্যুলেট জেনারেল খোলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উরাল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান আন্দ্রে বেসেদিন সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, “আমি যতদূর জানি, বছরের শেষ নাগাদ ভারত থেকে ১ মিলিয়ন বিশেষজ্ঞ রাশিয়ায় আসবেন, যার মধ্যে সভেরডলোভস্ক অঞ্চলও রয়েছে। ইয়েকাটেরিনবার্গে একটি নতুন কনস্যুলেট জেনারেল খোলা হচ্ছে, যা এই সমস্যাগুলি মোকাবেলা করবে।”
রাজধানী ইয়েকাটেরিনবার্গের সভেরদলোভস্ক ভারী শিল্প এবং সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। যার মধ্যে রয়েছে উরালমাশ এবং টি-৯০ ট্যাঙ্ক প্রস্তুতকারক উরাল ওয়াগন জাভোদ। বেসেদিন বলেন, “উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কারখানাগুলিতে আরও দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন, কিন্তু ঘাটতি রয়ে গেছে কারণ কিছু শ্রমিক ইউক্রেনে সামরিক অভিযানে নিযুক্ত রয়েছে এবং তরুণরা কারখানায় যায় না।”
ভারতীয় শ্রমিকরা প্রথম ২০২৪ সালে রাশিয়ার এইসব শিল্পাঞ্চলে আসেন। কালিনিনগ্রাদ মাছ প্রক্রিয়াকরণ কমপ্লেক্স জা রোদিনু থেকে শুরু করে, যেখানে শ্রমিক ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছিল। রাশিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয় ২০৩০ সালের মধ্যে ৩.১ মিলিয়ন কর্মী ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছে। তাই ২০২৫ সালে যোগ্য বিদেশী কর্মীদের জন্য কোটা ১.৫ গুণ বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা নিয়েছে। যার ফলে কর্মী নিয়োগ দাঁড়াবে ০.২৩ মিলিয়নে।
বেসেদিন আরও জানিয়েছেন যে যে রাশিয়া শ্রীলঙ্কা এবং উত্তর কোরিয়া থেকে শ্রমিক নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে, যদিও তাদের আনার ব্যাপারে প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল বলে জানিয়েছেন তিনি। ভারতীয় কর্মী নিয়োগের এই পদক্ষেপটি দীর্ঘমেয়াদী কর্মী ঘাটতি মোকাবেলার পাশাপাশি বিশেষ প্রকল্পের ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মীর অভাব মেটাবে।
