ওঙ্কার ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ তৃত্বীয় বছরে পড়েছে। পশ্চিমী দুনিয়ার নানা চেষ্টার পরও মস্কোর বোমাবর্ষণ থামছে না এমন অবস্থাতেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার নিউ জার্সিতে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনাল থেকে ফিরে এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, ইউক্রেনের জন্য বহু প্রতীক্ষিত ‘প্যাট্রিয়ট’ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম পাঠাবে আমেরিকা।
ট্রাম্প সেই সঙ্গে আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, রাশিয়ার উপর আরও কড়া নিষেধাজ্ঞা চাপানো হবে, যার পরিসর এবার আরও বড় হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, “ওরা (ইউক্রেন) প্যাট্রিয়ট চায়। আমরা কিছু দেব। কতটা দেব, সেটা এখনও স্থির হয়নি। তবে কিছু প্রতিরক্ষা তো ওদের দরকার”। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহে সাময়িক বিরতি নেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতি পালটে যাওয়ায় নতুন করে কিয়েভকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিল ট্রাম্প প্রশাসন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, “নতুন প্যাট্রিয়ট সিস্টেম নিয়ে বহুস্তরীয় একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছি”। ট্রাম্পের বক্তব্যে সেই বার্তাই আরও স্পষ্ট হল। কিন্তু শুধু প্রতিরক্ষা সরঞ্জামই নয়, পুতিনের উপর ব্যক্তিগতভাবে ক্ষোভও এদিন উগরে দেন ট্রাম্প। বলেন, “পুতিন সবাইকে মিষ্টি কথা শোনাচ্ছে, আর রাত হলেই বোমা মারছে। যুদ্ধে আলোচনার রাস্তা খুলছে বলে দেখাচ্ছে, আর নতুন নতুন হামলা চালাচ্ছে”। অথচ প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউসে ফিরে ট্রাম্পের অন্যতম বার্তা ছিল, আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ করতে চান তিনি। ইউরোপীয় মিত্ররা যখন নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর পথে হাঁটছিল, তখন ট্রাম্প তা থেকে বিরত ছিলেন। কিন্তু একের পর এক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মস্কো উড়িয়ে দেওয়ায় ট্রাম্প শিবিরের ধৈর্যও শেষের পথে।
এই প্রেক্ষিতে রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল রবিবারই একটি দ্বিদলীয় বিল পেশ করেছেন, যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে আরও শক্তিশালী আর্থিক ও বাণিজ্যিক অস্ত্র তুলে দেওয়া হবে। এই বিলে ট্রাম্প রাশিয়ার মিত্র দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা পাবেন। এর ফলে চাপে পড়তে পারে রাশিয়ার বড় বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, যেমন চিন, ভারত কিংবা ব্রাজিল।
