ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ভারত নিরপেক্ষ নয়, বরং শান্তির পাশে রয়েছে। চলমান ইউক্রেন সংকটের প্রেক্ষাপটে মোদির এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের কূটনৈতিক পরিচয়কে নতুন মাত্রা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে জানান, যুদ্ধ নয়, সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, বিশ্ব আজ বহু জটিল সংকটের মুখোমুখি, তাই যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বৈঠকে মোদি আরও বলেন, সাম্প্রতিক শান্তি উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সংলাপের ফলাফল প্রমাণ করছে যে, কথোপকথনের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফেরানো সম্ভব। তিনি রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার গুরুত্বও উল্লেখ করেন। মোদি ও পুতিনের মধ্যে এই আলোচনায় কেবল রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রসারকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এমন অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শান্তিপ্রিয় ভূমিকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এবং বিশ্ব রাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষায় দেশের ভূমিকাকে শক্তিশালী করছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্মরণ করিয়ে দেন, যে কোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের জীবন ও মানবিক মূল্য সর্বাগ্রে রাখা উচিত। তিনি বলেন, ভারত শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে চায় এবং এর মাধ্যমে ইউক্রেনের সংকটসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধানে অবদান রাখতে আগ্রহী।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে মোদি এবং পুতিন উভয়েই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গভীরতা এবং ভবিষ্যতের সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের এই স্পষ্ট বার্তা আন্তর্জাতিক মঞ্চে শান্তিপ্রিয় নীতি অনুসরণের ক্ষেত্রে দেশকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে। মোদির এই কূটনৈতিক অবস্থান যুদ্ধবিরতি এবং শান্তিপ্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা সুস্পষ্ট করেছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
