ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় দিল্লি কোনও অবস্থাতেই নিজেদের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেবে। তিনি বলেন, ভারতের কিছু ‘রেড লাইন’ রয়েছে, যা অতিক্রম করা যাবে না। সেই সীমারেখার মধ্যে থেকেই যেকোনও চুক্তি সম্পন্ন হবে। তাঁর কথায়, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি।
জয়শঙ্কর অভিযোগ করেন, আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের উপর একাধিক শুল্ক আরোপ করেছে, বিশেষত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হয়েছে। তাঁর মতে, এই শুল্কনীতি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং অন্যায্য। তিনি এও জানান, ওয়াশিংটনের তরফে দিল্লির উপর নানা রকম চাপ সৃষ্টি করা হলেও ভারত নিজেদের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করবে না। জাতীয় স্বার্থই হবে সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার।
তবে সব বিরোধ থাকা সত্ত্বেও জয়শঙ্কর জোর দিয়ে বলেন, আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নষ্ট হয়নি। বাণিজ্য নিয়ে মতভেদ থাকলেও প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সহযোগিতার মতো নানা ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে চলেছে। অতীতে একাধিক বার ভারতকে নিশানা করলেও দুই দেশের বানিজ্যিক ও কুটনৈতিক সম্পর্ক যে ঠিক আছে তা ট্রাম্প শিবির বার বার বলে এসেছে।
প্রসঙ্গত ভারতের উপর আমেরিকা ইতিমধ্যেই ৫০% শুল্ক চাপিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথায় রাশিয়া থেকে কম দামে তেল কিনে দুই বছর যাবত চলা রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে মদত দিচ্ছে ভারত। নয়া দিল্লির তরফ থেকে অবশ্য এই অপবাদ একেবারেই মেনে নেওয়া হয়নি। কেন্দ্রের তরফ থেকে জানানো হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এহেন অপবাদ অপ্রাসঙ্গিক এবং অযৌক্তিক। এমনকি বিদেশ মন্ত্রক প্রমাণসহ দেখিয়েছে যে শুধুমাত্র ভারতই নয় ইউরোপের বাকি দেশ গুলিও রাশিয়া থেকে বহু মাত্রায় তেল কিনছে। এরপর দুই দেশের সম্পর্কের গতি যে ভালো দিকে যাবেনা তা আশা করেছিল আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহল। কিন্তু তারপর নয়া দিল্লির প্রতি ট্রাম্পকে নিজের সুর নরম করতে দেখা গেছে। এই অবস্থায় বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নিজেদের অবস্থান ষ্পষ্ট করে দিল।
বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, দিল্লি যেমন বিশ্বশক্তির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী, অন্যদিকে তেমনই নিজেদের সীমারেখা মেনে শক্ত অবস্থান নিতে প্রস্তুত। ফলে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় আপসের জায়গা থাকলেও ভারতের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে কোনও আপস হবে না এটাই এখন নয়া দিল্লির অবস্থান।
