অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস লিখলেন আবদুল এল সইদ। মিশিগান থেকে সেনেটর নির্বাচিত হয়ে তিনিই হতে চলেছেন মার্কিন ইতিহাসের প্রথম মুসলিম সেনেটর।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে ২ লক্ষের বেশি ভোটে হারিয়েছেন ৪২ বছরের এই ডেমোক্র্যাট নেতা। শেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি পেয়েছেন ৫২ শতাংশ ভোট, রজার্স পেয়েছেন ৪৬ শতাংশ।
জয়ের পর ডেট্রয়েটে সমর্থকদের সামনে দাঁড়িয়ে সইদ বলেন, “মিশিগান, আমরা পেরেছি! আপনাদের সেনেটর হিসেবে এখানে দাঁড়াতে পেরে আমি গর্বিত এবং সম্মানিত।”
পেশায় চিকিৎসক সইদ মিশিগানের রচেস্টার হিলসের বাসিন্দা। তাঁর বাবা-মা মিশর থেকে আমেরিকায় এসেছিলেন। জনস্বাস্থ্য আধিকারিক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে কংগ্রেসম্যান হ্যালি স্টিভেন্সকে হারিয়ে সেনেটের টিকিট পেয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী সারাহ জুকাকুও একজন চিকিৎসক। তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত।
এই জয় আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ ভোটের আগে সইদকে নিয়ে লাগাতার মুসলিম-বিরোধী প্রচার চালিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক সাক্ষাৎকারে সইদকে ‘জেহাদি’, ‘সন্ত্রাসী মানসিকতা’র বলে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। এমনকি বলেছিলেন, সইদ নির্বাচিত হলে সেনেটে ঢোকার আগে তাঁর জন্য মেটাল ডিটেক্টর বসাতে হবে।
শুধু সইদ নন, মুসলিম অভিবাসীদের নিয়েও লাগাতার আক্রমণ শানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি ছিল, আমেরিকা খ্রিস্টানদের দেশ। অভিবাসীরা আমেরিকাকে মুসলিম রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্র করছে।
কিন্তু ভোটের ফল বলছে, ট্রাম্পের এই প্রচার ভোটবাক্সে দাগ কাটেনি। উল্টে মিশিগানের মানুষ সইদকেই বেছে নিয়েছেন।
এদিকে, এখনও পর্যন্ত পাওয়া হিসেবে সেনেটে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে ৫৩টি আসনে, রিপাবলিকানরা ৪২টিতে। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে ২২৪টি আসনে, রিপাবলিকানরা ১৩৩টিতে। কয়েকটি আসনের চূড়ান্ত ফল এখনও বাকি।
এর আগে সেনেটে রিপাবলিকানদের দখলে ছিল ৫৩টি আসন, ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। হাউসে রিপাবলিকানদের ছিল ২১৮টি, ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি।