নিজস্ব প্রতিনিধি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় নতুন দল ও বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেছেন হুমায়ুন কবীর। মুখ্যমন্ত্রী পিছন থেকে রিমোট কন্ট্রোলে হুমায়ুন কবীরকে চালনা করছেন বলে বিস্ফোরক মন্তব্যে করলেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ।
গত ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেছেন তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তিনি সমর্থন যেমন পেয়েছেন, তেমনি জুটেছে কড়া সমালোচনাও। বাবরি মসজিদের শিলান্যাসে কার্যত মানুষের ঢল নেমেছিল। তার সাক্ষী থেকেছে গোটা দেশ। ইতিমধ্যেই দানপত্র উপচে পড়েছে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ বদলে দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। প্রশ্ন উঠছে ভরতপুরের বিধায়কের পিছনে কে রয়েছে? যদিও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি আঙুল তুলেছেন বিজেপির দিকে। এই পেক্ষাপটে এবার সম্পূর্ণ উল্টো দাবি বিজেপি নেতা সজল ঘোষের। তাঁর দাবি, হুমায়ুন কবীরকে পিছন থেকে রিমোট কন্ট্রোলে পরিচালনা করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের টাকায় প্রচার করবেন হুমায়ুন কবীর। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, মসজিদের শিলান্যাসে এত টাকা কোথা থেকে পেলেন। এদিন হুমায়ুন কবীরের আগে তাঁর নতুন দলের নাম কী হতে চলেছে তা নিয়ে মন্তব্য করেন সজল। তাঁর দাবি, হুমায়ুন কবীর নতুন দলের নাম রাখছেন, তৃণমূল কংগ্রেস (মুসলিম)। পিছনে তৃণমূল না থাকলে এত অনুদান একদিনে পাওয়া প্রায় অসম্ভব বলে দাবি সজল ঘোষের।
এদিকে আগামী ২২ ডিসেম্বরই নতুন রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে আনবেন বলেই জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। ইতিমধ্যেই তৃণমূল তাঁকে দল বিরোধী কাজের জন্য সাসপেন্ড করেছে। যদিও হুমায়ুন কবীর দাবি করছেন নতুন দল করে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনীতির সমীকরণ বদলে দেবেন। জোড়াফুল শিবিরের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নতুন দল তৈরির পিছনেও ষড়যন্ত্র দেখছেন সজল ঘোষ। তাঁর দাবি, হুমায়ুন কবীর আসলে তৃণমূলের ‘বি টিম’। বিজেপি নেতার ব্যাখ্যা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ-সহ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় তৃণমূলের হাল খারাপ হবে। এটা বিলক্ষণ বুঝেছেন মমতা। কারণ তৃণমূলের প্রতি ক্রমশ বিশ্বাস হারাচ্ছেন সংখ্যালঘুরা। সেই ভোট যাতে অন্য ঝুলিতে না যায় তাই হুমায়ুন কবীরকে মাঠে নামানো হয়েছে। ভোটের পর হাসি মুখে তৃণমূলে যোগ দেবেন হুমায়ুন। ছাব্বিশে মমতা যদি মুখ্যমন্ত্রী হন। হুমায়ুন কবীর হবেন উপ মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে নিয়ে নানা মুনি নানা মত দিচ্ছেন, তবে এখন দেখার হুমায়ুন কবীর কোন পথ ধরেন।
