ওঙ্কার ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি বিচে সংঘটিত ভয়াবহ হামলার পর অভিযুক্ত সাজিদ আক্রমকে ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরে যখন নানা প্রশ্ন উঠছে, তখন তেলেঙ্গানা পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে ভারত ছাড়ার আগে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অপরাধমূলক অতীত ছিল না। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, সাজিদ আক্রম ১৯৯৮ সালে ভারত ত্যাগ করার সময় বা তার আগের কোনও পর্যায়ে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
তেলেঙ্গানা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, সাজিদ আক্রম মূলত হায়দরাবাদের বাসিন্দা ছিলেন এবং অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানোর আগে তাঁর জীবনযাপন বা সামাজিক আচরণে এমন কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি, যা থেকে ভবিষ্যতে চরমপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা যেত। ভারত ছাড়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছিলেন এবং সেই সময়ের মধ্যেই তাঁর মানসিক ও আদর্শগত পরিবর্তন ঘটে থাকতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সাজিদ আক্রম মাঝেমধ্যে ভারতে এলেও তাঁর সফরগুলি ছিল পারিবারিক বা সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে সীমাবদ্ধ। এমনকি তাঁর বাবার মৃত্যুর পরেও তিনি ভারতে ফেরেননি বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, সাজিদের মধ্যে কোনও উগ্রপন্থী মানসিকতা বা সহিংস প্রবণতার লক্ষণ তাঁরা কখনও লক্ষ্য করেননি।
তেলেঙ্গানা পুলিশের বক্তব্যে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে যে সাজিদ আক্রমের কথিত চরমপন্থী হয়ে ওঠার সঙ্গে ভারতের কোনও প্রত্যক্ষ যোগসূত্র নেই। তাঁদের মতে, এই পরিবর্তন যদি ঘটে থাকে, তা ভারতের বাইরে অবস্থানকালেই হয়েছে এবং স্থানীয় কোনও সংগঠন বা ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের প্রমাণ মেলেনি। সেই কারণে ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে এই ঘটনার কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
এই ঘটনায় ভারতের ভূমিকা নিয়ে যাতে বিভ্রান্তি না ছড়ায়, সে জন্যই তেলেঙ্গানা পুলিশ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বলে প্রশাসনিক মহলের মত। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য আদানপ্রদানে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করছে বলেও জানানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক তদন্তের আওতায় থাকলেও, সাজিদ আক্রমের ভারতীয় অতীত যে সম্পূর্ণভাবে দাগমুক্ত ছিল, তা পুলিশি অনুসন্ধানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
