স্পোর্টস রিপোর্টার : লজ্জা আর লজ্জা। ভারতীয় ফুটবলের মক্কা একসময়ে ছিল কলকাতা আর ভারতীয় ফুটবল এখন যতটা লজ্জার ততটাই লজ্জা নিয়ে মেসির সামনে দাঁড়ালো কলকাতা। নেতা মন্ত্রী থেকে শুরু করে অনেক বহিরাগত যাদের কোন ভূমিকা নেই তারা মেসির আশেপাশে আর টাকা দিয়ে টিকিট কাঁটা দর্শকরা মেসির চিহ্নটুকু দেখতে পেলেন না। ১১.৩০ মিনিটে যুবভারতীর মাঠে ঢোকে মেসির গাড়ি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ় এবং রদ্রিগো ডি’পল। ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা দেখে উচ্ছ্বসিত দেখায় মেসিকে। তবে গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু মানুষ ঘিরে ধরেন তাঁকে। ফলে গ্যালারি থেকে প্রায় ২০ মিনিট মেসিকে দেখাই যায়নি। এক সময় ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা ‘উই ওয়ান্ট মেসি’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।
মেসি যুবভারতীতে পৌঁছোতেই অন্তত ৭০-৮০ জন মানুষের ভিড় ঘিরে ধরে তাঁকে। মূলত মন্ত্রী, কর্তারাই ঘিরে ধরেন মেসিকে। অনেকে প্রায় প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের মতো এলএম টেনের শরীরে ঘেঁষে ছিলেন। মেসিতে ভাল করে হাঁটার জায়গাটুকুও দিচ্ছিলেন না কেউ কেউ ! ক্যামেরা এবং মোবাইল হাতে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মেসিকে ঘিরে রাখেন নিরাপত্তা রক্ষীরা।
অপ্রীতিকর কোনও পরিস্থিতি তৈরি না হলেও তাঁরা আয়োজকদের ভিড় সরানোর অনুরোধ করেন। গ্যালারি থেকে তাঁকে দেখা যাচ্ছিল না। এরপর মেসি বেরিয়ে যান। শাহরুখ খান কলকাতায় এলেও এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে তিনি আর এলেন না মাঠে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ও এলেন না, এলেন না সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। যাদের দেখার জন্য মানুষ অপেক্ষা করেছিলেন।
ক্ষুব্ধ দর্শকরা চেয়ার ভাঙেন বোতল ছোঁড়েন। পুলিশও একসময়ে হাল ছেড়ে দেয়। এরপর র্যা ফ নেমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। ২০০৮ সালে ৬ ডিসেম্বর দিয়েগো মারাদোনা যুবভারতী আসেন এর থেকে বেশি উন্মাদনা ছিল। তবুও নিরাপত্তাতে ঘাটতি হয়নি। যেমন ইভেন্ট সংস্থা শতদ্রু দত্ত ঘটনার জন্য দায়ী তেমনই সরকারের পুলিশ নিরাপত্তা না দিতে পারার জন্য দায়ী।পুলিও মার খেল দর্শকদের হাতে। দর্শকদের টিকিটের দাম ফেরত দেওয়া হয় কিনা সেটা দেখার। তবে লজ্জায় মুখ পুড়ল কলকাতার। ১৩ ডিসেম্বর অনলাকি ১৩ হয়ে থাকল ভারতীয় ফুটবলের জন্য।
