নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিনিকেতন : ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই ভাষা আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগে থেকেই তিনি রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনকে এই আন্দোলনের প্রারম্ভিক ভূমি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেনতা। ২৮ জুলাই শান্তিনিকেতনের পথে, পদযাত্রার সম্মুখ থেকে সেই আন্দোলনকে বাস্তবের রূপ দিলেন তিনি। সোমবার দুপুরে বোলপুরের পথ ধরে রবীন্দ্রনাথের ছবি বুকে নিয়ে সারা বাংলায় তিনি ছড়িয়ে দিলেন মাতৃভাষার আবেগ, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাঙালিদের যারা হেনস্থা করছে স্বভাবসিদ্ধ ভাষায় তাদেরও হুঁশিয়ারি দিলেন। একই সঙ্গে সহযাত্রীদের নিয়ে বাংলা ভাষার সম্মানরক্ষার অঙ্গীকার করলেন।
এদিনের এই কর্মসূচির জন্য রবিবার সন্ধ্যায় বোলপুরে এসে পোঁছোন মমতা। সোমবার গীতাঞ্জলি অডিটোরিয়ামে প্রশাসনিক বৈঠকের পর ঠিক হয় দুপুর দুটে নাগাদ শুরু হবে ভাষা আন্দোলনের পদযাত্রা। এদিন বোলপুরের পথ ধরে শান্তিনিকেতনের দিকে এগোতে শুরু করে বিশাল মিছিল। পদযাত্রার শুরুতে বাংলা বইর আদলে একটা বিশাল ট্যাবলো। মাঝখানে শান্তির প্রতীক হিসেবে সাদা পায়রার মূর্তি। বইয়ের পৃষ্ঠাজুড়ে লেখা, বাংলা ভাষা ও বাঙালিয়ানাকে ঘিরে নানান স্লোগান।
ট্যাবলোর চারপাশে রয়েছে বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ, নেতাজি, নজরুলের মতো মনীষীদের বড় বড় কাট-আউট। পদযাত্রার রাস্তাটি সাজানো ছিল ১২টি জায়ান্ট স্ক্রিন ও ২৮টি অস্থায়ী তোরণ। মিছিলে যোগ দেয় হরিনাম দলের সদস্য, মতুয়া সম্প্রদায়, আদিবাসী সমাজের মানুষ, খেলোয়াড়, ছৌ শিল্পী ও বিশিষ্টজনেরা।
মমতার এই কর্মসূচি ঘিরে বোলপুর শহরজুড়ে বেশ উৎসাহ চোখে পড়ে। টুরিস্ট লজ মোড় থেকে জামবনি মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তার দু’পাশ সাজানো হয়েছে বাংলা ভাষার গৌরবগাথায়, রয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তাও। মিছিলে চললো প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের গান। সব মিলিয়ে রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন স্বাক্ষী রইল স্বাধীন ভারতে বাংলা ভাষা রক্ষার এই আন্দোলনের। তবে সমগ্র আয়োজনের মধ্যে কোথাও যেন জড়িয়ে ছিল ২৬শের নির্বাচনী যুদ্ধের ছায়া। বাংলা রাজনীতির নবীনতম ইস্যু সযত্নে ঢাকা ছিল এই পদযাত্রার উন্মাদনায়।
