তাপস মহাপাত্র
মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকীর ঠিক পরের দিনই নতুন ভাবে পুরোনো আবেগকে তুলে ধরলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। দেশ জুড়ে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মানুষের আওয়াজকে একত্রিত করতে ‘সত্যাগ্রহ’ প্ল্যাটফর্মে তাঁদের প্রতিবাদের কথা নথিভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। যার লক্ষ্য- প্রশাসনের নিপীড়ন থেকে প্রতিবাদী মানুষদের সহায়তা করা।
দেশজুড়ে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক প্রতিবাদগুলো যাতে ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য শনিবার ‘সত্যাগ্রহ’ নামক একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, যেসব জায়গায় “সত্যকে দমন করা হচ্ছে”, সেখানে এটি মানুষকে সহায়তা করবে। তার কথায়, সত্য যাতে চাপা না পড়ে তা নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্ব। এক্স-এর একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, “সারা দেশজুড়ে মানুষ তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করছে—এবং প্রায়শই তারা একা লড়াই করছে। জেন-জি, শিক্ষার্থী, কৃষক, আদিবাসী, দলিত, নারী—প্রতিটি সংগ্রামেরই নিজস্ব গল্প আছে। কিন্তু বিচ্ছিন্ন কোনো কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দেওয়া প্রায়শই সহজ হয়। “‘সত্যাগ্রহ’ হল সেই সব কণ্ঠস্বরকে একটি মানচিত্রে একত্রিত করার একটি উদ্যোগ।”
মহাত্মা গান্ধীর কথা উল্লেখ করে রাহুল গান্ধী বলেছেন, “বাপু আমাদের শিখিয়েছেন যে সত্যই আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তবে তার চেয়েও বড় অস্ত্র হল সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানো। আপনিও যদি কোনো অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে থাকেন, তবে আপনার গল্পটি শেয়ার করুন। এতে মাত্র দুই মিনিট সময় লাগবে।” রাহুল জানিয়েছেন, এই প্ল্যাটফর্মে জমা দেওয়া প্রতিবাদগুলো ‘সত্যাগ্রহ’ মানচিত্রে স্থান পাবে। তিনি আরও বলেন, “আপনি দেখতে পাবেন আপনার মতোই আর কারা নিজেদের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।” সেইসঙ্গে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন, “আপনার পাশে দাঁড়াতে আমি যা কিছু করা সম্ভব—তা সংসদে হোক, রাস্তায় হোক, চিঠির মাধ্যমে হোক কিংবা যেখানেই আমার প্রয়োজন হোক—সবই করব। বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে এটি আমার দায়িত্ব। আমাকে আপনাদের সত্যাগ্রহের গল্পটা বলুন…”।
এক্সের ওই পোস্টের সঙ্গে একটি ভিডিওতে রাহুলে বলেছেন, “আপনারা সবাই জানেন যে সারা দেশজুড়ে সত্যকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে এবং বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ-আন্দোলন গড়ে উঠছে।” “আমরা এই আন্দোলনগুলোকে সংগঠিত করতে এবং সেগুলোকে একটি সাধারণ মঞ্চে বা মানচিত্রে একত্রিত করতে সাহায্য করতে চাই। আপনারা যে দাবির জন্য লড়াই করছেন, তা সমাধানে কীভাবে সহায়তা করা যায়, সে বিষয়ে আমরা আপনাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। সত্যাগ্রহের ওয়েবসাইটটি দেখুন, ফর্মটি পূরণ করুন এবং ওয়েবসাইটে আপনাদের আন্দোলনের কথা নথিভুক্ত করুন। আমরা দেখব কীভাবে আপনাদের পাশে দাঁড়ানো যায়। আমরা আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করব।”
ভিডিও বার্তায় রাহুল আরও বলেছেন, “বিরোধী দলনেতা হিসেবে, যেখানে সত্যকে পদদলিত করা হচ্ছে, সেখানে মানুষকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করা আমার জন্য অত্যন্ত জরুরি। সত্য গুরুত্বপূর্ণ—উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি প্রান্তে সত্যের জন্য লড়াই করাটা জরুরি।”