
২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিযুক্ত ২৫,৭৫২ জনের চাকরি বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট। এঁদের মধ্যে প্রায় ৭ হাজার চাকরিহারাকে এতদিনের বেতন বাবদ পাওয়া টাকা সরকারকে ফেরত দিতে হবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার তাঁদের রায়ে জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে প্রশ্নাতীত ভাবে যাঁরা ‘অযোগ্য হিসাবে চিহ্নিত’, তাঁদের চাকরি বাতিলের সঙ্গে ১২ শতাংশ হারে সুদ সহ বেতনও ফেরত দিতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ ২০১৬ সালের গোটা প্যানেলই বাতিল করেছে। অর্থাৎ ২৫ হাজার ৭৫৩ জনেরই চাকরি আর নেই। অতএব এক বছর আগে হাইকোর্টের রায়ের অধিকাংশই বজায় রইল। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এদিন চূড়ান্ত রায়ে বলেছে, যেহেতু এই নিয়োগপ্রক্রিয়া জালিয়াতির মাধ্যমে হয়েছে, এটি স্পষ্টতই প্রতারণার সামিল। তাই, এই বিষয়ে আগের নির্দেশ (হাইকোর্টের নির্দেশ) পরিবর্তনের কোনও যৌক্তিকতা নেই।’

তবে রায়ের ৪৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘যেসব প্রার্থীকে সরাসরি অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা যায়নি, তাঁদের ক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ নিয়োগপ্রক্রিয়াটি বেআইনি এবং সংবিধানের ১৪ ও ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী বলে ঘোষিত হয়েছে। যে কারণে তাঁদের নিয়োগও বাতিল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে ইতিমধ্যে যাঁরা চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের প্রাপ্ত বেতন বা অন্যান্য অর্থ ফেরত দিতে হবে না, কিন্তু তাঁদের চাকরিও থাকছে না। তবে যেসব সরকারি কর্মীরা অন্য সরকারি দফতর থেকে শিক্ষা দফতরের এই পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন, তাঁরা ফের পুরনো জায়গায় যোগদান করতে পারবেন। আর এই কাজ করতে হবে আগামী ৩ মাসের মধ্যেই। একই সঙ্গে জানান হয়েছে, যেহেতু পুরো পরীক্ষার প্রক্রিয়া ও ফলাফল অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, তাই এই পরীক্ষার মাধ্যমে আর কাউকে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।’