ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের উপর আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কংগ্রেস সদস্য। মার্কিন কংগ্রেসের পাঁচজন সাংসদ একটি চিঠির মাধ্যমে ইউনূসকে জানিয়েছেন, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর একটিকে বাইরে রেখে কোনও নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং গণভিত্তিসম্পন্ন দলকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাদ দিলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মৌলিক নীতিই প্রশ্নের মুখে পড়বে। মার্কিন সাংসদদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র সংকুচিত হলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা শুধু দেশের ভিতরেই নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাঁরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গণতন্ত্রের মূল শক্তি নিহিত থাকে সকল প্রধান রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণে।
চিঠিতে আরও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার প্রবণতা এবং অতীতের বিতর্কিত বিচার প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনা নিয়ে। সাংসদদের আশঙ্কা, এ ধরনের পদক্ষেপ নাগরিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হতে পারে এবং নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। এর ফলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং প্রতিষ্ঠানগুলির উপর মানুষের আস্থা দুর্বল হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এই চিঠি আসার আগেই ব্রিটেনের কয়েকজন সাংসদ একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়ে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনও নির্বাচন অর্থহীন হয়ে পড়বে। ধারাবাহিকভাবে পশ্চিমি দেশগুলির আইনপ্রণেতাদের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হল, একদিকে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, অন্যদিকে এমন একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা যা দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহল উভয়ের কাছেই গ্রহণযোগ্য হবে। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।
