ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরে জলদূষণের অভিযোগ ঘিরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শহরের ভগীরথপুরা ও সংলগ্ন এলাকায় গত কয়েক দিনে অসংখ্য মানুষ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার সরবরাহ করা পানীয় জল পান করার পরই বমি, ডায়রিয়া, পেটের তীব্র যন্ত্রণা ও জ্বরে আক্রান্ত হতে শুরু করেন বহু বাসিন্দা। দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে এবং শয়ে শয়ে মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হতে থাকেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই ঘটনায় একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যদিও সরকারি ভাবে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। প্রশাসনের তরফে কয়েকটি মৃত্যুকে জলদূষণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে স্বীকার করা হলেও, এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকৃত মৃত্যুসংখ্যা আরও বেশি। মৃতদের অধিকাংশই প্রবীণ এবং আগে থেকেই শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। অসুস্থদের মধ্যে মহিলা ও শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় পানীয় জলের প্রধান পাইপলাইনে ফাটল ধরেছিল। অভিযোগ উঠেছে, সেই ভাঙা পাইপলাইনের ওপরেই শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছিল, যার ফলে নিকাশির জল পানীয় জলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এর জেরেই মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদিও জল পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কিছু বলতে চাইছে না প্রশাসন। ঘটনার পর ইন্দোরের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভিড় উপচে পড়ে। বহু রোগীকে স্যালাইন ও অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি জলবাহিত সংক্রমণের লক্ষণ বলেই মনে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত চিকিৎসক ও নার্স মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনায় প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, পুরসভা আগে থেকেই পাইপলাইনের সমস্যার কথা জানত, তবু সময়মতো মেরামত করা হয়নি। ঘটনার পর রাজ্য সরকার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন পুরকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি মৃতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও অসুস্থদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় ইন্দোর শহরের পানীয় জল ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। জল পরীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে গোটা এলাকা। ততদিন পর্যন্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাসিন্দাদের ফুটিয়ে জল পান করার এবং পৌরসভার তরফে বিকল্প জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত প্রশাসনের উপর নজর রাখছেন সাধারণ মানুষ।
