ওঙ্কার ডেস্ক: একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে দিল্লিতে গ্রেফতার হয়েছেন স্বঘোষিত সিদ্ধ সাধক চৈতন্যানন্দ সারস্বতী। অভিযোগ অনুসারে, তিনি শ্রী শারদা ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্ট-রিসার্চের কমপক্ষে ১৭ জন ছাত্রীকে যৌন নির্যতন করেছেন। গ্রেফতারের আগে, চৈতন্যানন্দকে আটক এড়াতে প্রায় ৫০ দিনের মধ্যে ১৫টি হোটেল পরিবর্তন করতে দেখা গেছে তাঁকে। এই সময়ের বেশিরভাগ হোটেল ছিল সস্তা এবং যেগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। এর ফলে তাঁকে গ্রেফতার করার গতি অনেকটাই কমে গেছিলো। পুলিশ সুত্রে খবর, তার সহযোগীরা এসব হোটেল বাছতে করতে সাহায্য করেছিল যাতে পুলিশ নজর এড়ানো যায়।
এ ঘটনার সূত্রপাত হয় ৩১ জুলাই, যখন এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তার কাছে একটি চিঠি পাঠান এবং নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। এর পরদিন, এয়ার ফোর্সের একজন কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করে ইনস্টিটিউটকে ইমেইল পাঠান। এরপর ইনস্টিটিউট একটি এফআইআর দায়ের করে, চৈতন্যানন্দের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিল করে এবং নতুন ১১ সদস্যের গভর্নিং কাউন্সিল গঠন করে।
প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা যায়, চৈতন্যানন্দ মহিলা ছাত্রাবাসে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন, ছাত্রীদের বিদেশি ভ্রমণে জোর করতেন এবং কর্মীদের প্রভাবিত করে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন। তিনজন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হলেও তারা এখনও গ্রেফতার হয়নি। অভিযোগ অস্বীকার করে চৈতন্যানন্দ বলেছেন যে, এই সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি তার ফোন ও আইপ্যাডের পাসওয়ার্ড প্রদান করতে অস্বীকার করেছেন। ইতিমধ্যে তিনটি ফোন এবং একটি আইপ্যাড ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।পুলিশ এবং ফরেনসিক দল ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে আগামী দিনে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
